যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। সিনেট নির্বাচনে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে রয় কুপার, জর্জিয়া থেকে জন অসফ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে ক্রিস পাপাস জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনেও রিপাবলিকানদের একটি আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে দলটি। এসব ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এপির পূর্বাভাস অনুযায়ী, নর্থ ক্যারোলিনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেছেন। আসনটি রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। জর্জিয়ায় রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে হারিয়ে নিজের সিনেট আসন ধরে রেখেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ। আর নিউ হ্যাম্পশায়ারে রিপাবলিকান জন সুনুনুকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ক্রিস পাপাস।

সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের আরো তিনটি আসনে জয় পেতে হবে। তবে নিজেদের দখলে থাকা আসনগুলোও ধরে রাখতে হবে তাদের। আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও ও টেক্সাসের নির্বাচন এখন এ লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি

সিনেটের পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। নর্থ ক্যারোলিনার পশ্চিমাঞ্চলে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একটি আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমি আগার। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী জেনিফার বালকমকে পরাজিত করেছেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ আসনে প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জিতেছিলেন ট্রাম্প।

ফ্লোরিডায় রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণের চ্যালেঞ্জের মুখেও নিজেদের দুটি আসন ধরে রেখেছেন ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ক্যাথি কাস্টর ও ড্যারেন সোটো। তবে অঙ্গরাজ্যটির সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান অ্যাশলি মুডি এবং গভর্নর নির্বাচনে বায়রন ডোনাল্ডস জয়ী হয়েছেন। ফলে ফ্লোরিডায় ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতির চিত্র প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকটি আসনে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

ডেমোক্র্যাটদের আরো কয়েকটি জয়

নর্থ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের বাইরেও সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। ডেলাওয়্যারে ক্রিস কুনস, ম্যাসাচুসেটসে এড মার্কি, রোড আইল্যান্ডে জ্যাক রিড এবং নিউ জার্সিতে কোরি বুকার নিজেদের আসন ধরে রেখেছেন। ইলিনয়ে নতুন সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জুলিয়ানা স্ট্র্যাটন।

ইলিনয়ের এ জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই সময়ে তিনজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী সিনেটরের দায়িত্ব পালন করবেন। অন্য দুজন হলেন ডেলাওয়্যারের লিসা ব্লান্ট রচেস্টার ও মেরিল্যান্ডের অ্যাঞ্জেলা অলসব্রুকস।

নিউ হ্যাম্পশায়ারে পাপাসের জয়ও ডেমোক্র্যাটদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তার কাছে হেরে যাওয়ায় রিপাবলিকানরা ওই আসনটি নিজেদের দখলে নিতে পারেনি। পাপাস যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ।

অর্থনীতি ও ট্রাম্পের নীতি নিয়ে অসন্তোষ

নির্বাচনের ফলাফলের পাশাপাশি ভোটারদের মনোভাব নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে এসএসআরএস পরিচালিত বুথফেরত জরিপে। এতে অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের অবস্থা ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে।

জরিপে অংশ নেয়া অধিকাংশ ভোটার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মনে করেন, ট্রাম্পের নীতির কারণে দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। ১০ জনের মধ্যে ছয়জন জ্বালানি তেল ও খাদ্যের দাম নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। দুই বছর আগের তুলনায় নিজেদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ১০ জনের মধ্যে চারজনের বেশি।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে ভোটারদের মধ্যে। প্রায় ১০ জনের মধ্যে ছয়জন মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। তিন-চতুর্থাংশ ভোটার বলেছেন, এই সংঘাত কংগ্রেস নির্বাচনে তাদের ভোট দেয়ার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ বা প্রধান প্রভাব ফেলেছে।

এ ছাড়া প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার সরকারি দুর্নীতিকে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) যেভাবে দায়িত্ব পালন করছে, তা সমর্থন করেন না ১০ জনের মধ্যে ছয়জন।

এসএসআরএসের জরিপের এসব তথ্যের সঙ্গে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষণেও ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি উঠে এসেছে।