যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা এখনো অনেক দূরের বিষয়। কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েই গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারো সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা ঠেকাতে এ তৎপরতা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। খবর রয়টার্স।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধের ইতি টানতে দুই দেশ এখনো কোনো চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছতে পারেনি। গত আট দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি খসড়া চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। গত সোমবার রাতে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে গিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

এর মধ্যেই ইরানের কেশম দ্বীপে রাতভর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা এটিকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা বলছে। দেশটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছিল হামলার লক্ষ্য। অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, হরমুজ প্রণালির পূর্ব আকাশে তারা একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার মতপার্থক্য কমাতে মধ্যস্থতাকারীরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের শর্ত মানতে হবে। এরপরই কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে। ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত দাবি’ তেহরান মেনে নেবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মঙ্গলবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তিশালী ও যুক্তিসংগত জবাব দিয়েছে তেহরান। এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব ওয়াশিংটনের।

ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব আঞ্চলিক ও আঞ্চলিক সীমানার বাইরেও কঠোরভাবে দেয়া হবে।

গালিবাফ বলেন, হুমকি ও সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানি জনগণকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চাইছে শত্রুপক্ষ। কিন্তু তারা ভুল করছে, ইরান আত্মসমর্পণ করবে না। যুক্তরাষ্ট্র কোনো ভুল হিসাব করলে তার জবাব কী হবে, তা অনুমান করা কঠিন হবে এবং সে ক্ষেত্রে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নেয়া হবে না।

ইরানের বিরুদ্ধে আবার সামরিক হামলা শুরুর হুমকি কার্যকর করবেন কি না, এ নিয়ে সোমবার সংশয় প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলা পুনরায় শুরুর বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কিছু বলেননি। তবে ট্রাম্পের দাবি, ইরান যত দ্রুত সম্ভব একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায়েও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। এ উদ্যোগের সে লক্ষ্য, চলমান সংঘাত যাতে আরো বিস্তৃত না হয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মঙ্গলবার বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে তেহরানের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিদেশী সামরিক শক্তির সম্পৃক্ততা ছাড়াই আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় ইরান।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। গত আগস্টের পর এই তিন দেশের সঙ্গে ইরানের এটি ছিল প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ।

সৌদি আরব বলেছে, সামরিক উত্তেজনা আবার যেন না বাড়ে, সে জন্য আলোচনার পথ তৈরি করাই ছিল তাদের কর্মকর্তাদের তেহরান সফরের উদ্দেশ্য।