বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই ফসল আবাদ শুরু হয় সুদানে। এ মৌসুমের উৎপাদনই দেশটির খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করে। যদিও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। গত বছরের এপ্রিল থেকে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে বর্ষা মৌসুমে দেশটিতে ফসলের আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দেশটির কৃষিজীবীদের ভাষ্যমতে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ফসলের মাঠে কিংবা সংশ্লিষ্ট কাজে ফিরতে পারছেন না তারা। ফলাফল হিসেবে আবারো তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে যাচ্ছে আফ্রিকার দেশটি। গত বছর থেকে চলে আসা এ সংকট আরো প্রকট হয়ে সামনে দুর্ভিক্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুদানের উর্বর অঞ্চল হিসেবে পরিচিত জাজিরা, গাদারিখ ও সিনাল প্রদেশ। পুরো দেশের খাদ্য চাহিদার বড় অংশই পূরণ হয় এসব অঞ্চল থেকে। অথচ বিস্তীর্ণ উর্বর ভূমির এসব অঞ্চলেই কয়েক মাসে সংঘাত বেড়েছে কয়েক গুণ। এসব অঞ্চলের স্থানীয়দের জীবিকার প্রধান উৎস কৃষিকাজ। কিন্তু দেশটির আধা সামরিক মিলিশিয়া বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) আতঙ্কের কারণেই কৃষিকাজে ফিরতে পারছেন না কৃষকরা। গত বছর এপ্রিলে শুরু হওয়া এই দাঙ্গায় আরএসএফের তোপের মুখে অন্যান্য অঞ্চল থেকে গাদারিখ অঞ্চলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে ১০ লাখেরও বেশি সাধারণ মানুষ। উর্বর গাদারিখ গম, তিল, সূর্যমুখী, দানাদার জাতীয় ফসলসহ অন্য সব ফসলের উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু এ বছর অঞ্চলটিতে চাহিদার তুলনায় অনেক কম পরিমাণ ফসল উৎপাদনের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, গত বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও আধা সামরিক আরএসএফের প্রধান মোহাম্মদ হামদান হেমেদতি দাগালোর দ্বন্দ্বের জেরে প্রকাশ্যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে দুই গ্রুপ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে কৃষি উৎপাদন অনেক কমে যায়, যা চলতি বছর আরো কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া গত এক বছরে দেশটিতে খাদ্যের দাম বেড়েছে এবং পর্যাপ্ত খাবারও পাওয়া যাচ্ছে না।

দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ রাজধানী খার্তুমকে কেন্দ্র করে চলছে। যুদ্ধ শুরুর পর এ অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধের ফলে খাদ্য ও ত্রাণবাহী যানবাহনের নিয়মিত চলাচলকে মারাত্মকভাবে সীমিত করা হয়েছে এবং সুদানে ক্ষুধার সংকট আরো গভীর হয়েছে।

ডব্লিউএফপি কর্মকর্তা ও কর্মীরা জানিয়েছেন, বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের কম খাবার খাওয়াচ্ছেন। তাদের শেষ সম্বল বিক্রি করছেন, অর্থের জন্য ভিক্ষা করছেন বা ওষুধ থেকে খাবারের জন্য অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৩ সালে সুদানের শস্য উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। সবচেয়ে বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে যেখানে সংঘাত সবচেয়ে তীব্র ছিল।

শুধু উৎপাদন কমে যাওয়াই নয় খাদ্য সংকট দেখা দেয়ার আরেকটি বড় কারণ পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটা। সাধারণ মানুষের মধ্যে ত্রাণের খাবার পৌঁছে দেয়া বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে দেশটিতে। উভয় পক্ষ একে অন্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোয় ত্রাণ প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। সব মিলিয়ে দেশটিতে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। খবর বিবিসি