ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তারা বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরে সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ অবস্থায় দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। খবর বিবিসি।

আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ সামরিক আগ্রাসনকে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানিয়েছে ভেনিজুয়েলা সরকার।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সামরিক বিমানঘাঁটি লা কার্লোটা এবং প্রধান সামরিক ঘাঁটি ফুয়ের্তে তিউনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। উভয় স্থানে বিস্ফোরণের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এক বিবৃতিতে দেশটির সরকার জানিয়েছে, কারাকাসের পাশাপাশি মিরান্ডা, আরাগওয়া এবং লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলা চালানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীকে মোতায়েন করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে রাজধানী কারাকাসজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আকাশে যুদ্ধবিমান ও কালো ধোঁয়া দেখা যায়। শহরের একটি বড় সামরিক ঘাঁটির কাছে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছুদিন ধরেই ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তিনি মাদুরোকে ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ছেড়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। গত সোমবারও ট্রাম্প বলেছিলেন, মাদুরোর জন্য ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়াটাই হবে ‘বুদ্ধিমানের কাজ’।

ভেনিজুয়েলা সরকারের দাবি, এ হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশটির তেল ও খনিজ সম্পদ দখল করা। তবে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এ সম্পদ দখলের চেষ্টা সফল হবে না।