স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সুন্দর দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার। আমরা অতীতের সরকারের ধারাবাহিকতা পরিহার করে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। তিনি বলেন, ‘দেশ ও জনগণের উন্নয়নে রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিকসহ সব বিষয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে ছাত্র-জনতাকে এগিয়ে আসতে হবে।

গতকাল রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, ২০২৬) উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিলে তা বাস্তবায়ন করে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী ধীরে ধীরে মানুষের সব চাহিদা পুরণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘একটি জাতির উন্নয়নের জন্য সে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করতে হয়। বর্তমান সরকার সেটি করছে, কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে রেখে গেছে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু ও মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, ২০২৬ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ র‌্যালি, চারুকলা প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা শিক্ষা ব্যবস্থার আরো উন্নয়নে কাজ করছি। দেশের বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেসব শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হবে না, তারা কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।’

এ সময় প্রযুক্তিভিত্তিক, মেধানির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে চিরাচরিত শিক্ষার বাইরে গিয়ে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও মেধার বিকাশ ঘটানো জরুরি। এ লক্ষ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্ভাবনী গবেষণা, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির চর্চা ও মেধাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশের স্বার্থে ও জনগণের কল্যাণে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল নীতি হওয়া উচিত “‍সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে জনগণ”। দেশ মানে শুধু ভূখণ্ড বা পতাকা নয়, এর পেছনে রয়েছে জনগণের স্বাধিকার ও মালিকানার মেলবন্ধন।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুসহ অন্য ছাত্রনেতাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ঐকান্তিক ইচ্ছায় ১৯৯৫ সালে এ প্রতিষ্ঠানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকারের মেয়াদে ২০০৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়।’

বর্তমান ক্যাম্পাস ছাড়াও কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমির ওপর স্বতন্ত্র ও আধুনিক আবাসিক সুবিধাসংবলিত নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিদাওয়া পূরণের বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানান।

শিক্ষা ব্যবস্থা ও উচ্চ শিক্ষা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শুধু সনদ বা জিপিএ ৫ অর্জনের মাধ্যমে একটি জাতি উন্নত হতে পারে না। এর জন্য গুণগত পরিবর্তন ও গবেষণামুখী শিক্ষা অপরিহার্য। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল কর্মসংস্থানের জন্য নয়, বরং মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও উচ্চতর গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা উচিত।’

কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘সবাইকে কেবল সাধারণ শিক্ষায় উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে বেকার না থেকে, আধুনিক বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।’

সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সনাতনী ব্যবস্থার পাশাপাশি ইনোভেটিভ আইডিয়া, প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান ও মেধানির্ভর জনবল সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই।’

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও দেশপ্রেমকে ধারণ করে জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।