নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নতুন অনুসন্ধান কূপে গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। সংস্থাটি জানিয়েছে, কূপটির দুটি জোনে মোট ৯৭ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাসের মজুদ রয়েছে। কূপটি থেকে প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গতকাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপে অগ্নি প্রজ্বালনের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বাপেক্স জানায়, গত ৮ জুলাই শুরু হওয়া কূপটির খননকাজ গতকাল সম্পন্ন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক উদ্যোগে এবং বাপেক্স পরিচালিত ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কূপটির খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
বাপেক্সের নিজস্ব ‘বিজয়-১০’ রিগ বা খননযন্ত্র ব্যবহার করে গত ৮ জুলাই সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের খননকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে চলা অভিযানে কূপটি ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীর পর্যন্ত সফলভাবে খনন করা হয়। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে কূপটির দুটি আলাদা জোনে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়।
বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, কূপটির দুটি জোনে মোট ৯ হাজার ৭৬৯ কোটি ঘনফুট বা ৯৭ দশমিক ৬৯ বিসিএফ গ্যাসের মজুদ রয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ের বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করলে এ গ্যাসের আনুমানিক মূল্য ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা।
প্রকল্পেরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক গ্যাস প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কূপটিতে গ্যাসের পাশাপাশি তেল বা অন্য কোনো খনিজ পদার্থ রয়েছে কিনা, তা ১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও ডিএসটি পরীক্ষা শেষে সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হবে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘নতুন এ গ্যাসের সন্ধান দেশের জ্বালানি খাতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোম্পানীগঞ্জের পাশাপাশি নোয়াখালীর মানুষও এ খবরে উচ্ছ্বসিত।’










