ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন দেশটির মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির জরুরি বৈঠকের পর গতকাল এ চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয়া হয়। একই সঙ্গে পাকিস্তানিদের জন্য সার্কের বিশেষ ভিসা সুবিধা বাতিলসহ মোট পাঁচটি পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি গণমাধ্যমকে এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন। খবর এনডিটিভি।

১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর করাচিতে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ওই চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় বহুল আলোচিত এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। বিশ্বে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল পানিবণ্টন চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় ভারত-পাকিস্তানের এ চুক্তিকে। পেহেলগামে হামলার পর গতকাল এ চুক্তি স্থগিত করা হয়েছে। ঘোষণার পর থেকেই চুক্তি স্থগিত হয়েছে বলে জানান বিক্রম মিশ্রি। এ চুক্তির ফলে চিরবৈরী দুই দেশের মধ্য দিয়ে প্রবহমান সিন্ধু নদের উপকার উভয়পক্ষই ভোগ করছিল। চুক্তি স্থগিত হওয়ায় ভাটিতে থাকা পাকিস্তানের নদী-তীরবর্তী অঞ্চল মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

এছাড়া ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে আটারি-ওয়াঘা চেকপোস্ট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে ভারত। তবে বৈধ ভিসা নিয়ে পাকিস্তানে অবস্থানকারী ব্যক্তিরা ১ মের আগে এ রুট দিয়ে ফিরতে পারবেন। পাকিস্তানের নাগরিকদের আর দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) ভিসায় ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে না বলেও ঘোষণা দিয়েছে মোদি সরকার। আগে যেসব ভিসা দেয়া হয়েছিল, সেগুলোও বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে যেসব পাকিস্তানি নাগরিক এ ভিসায় ভারতে অবস্থান করছেন, তাদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে নয়াদিল্লি।

কূটনৈতিকভাবেও বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে। পাকিস্তানের হাইকমিশনে নিযুক্ত নৌ ও বিমান উপদেষ্টাদের এক সপ্তাহের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনে কর্মরত সামরিক উপদেষ্টাদের প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়া উভয় দেশের হাইকমিশনের কর্মী সংখ্যা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০-এ আনা হবে। এ সিদ্ধান্ত আগামী ১ মের মধ্যে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে ভারত।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিকালে ওই সন্ত্রাসী হামলায় এখন পর্যন্ত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার জন্য পাকিস্তানের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছে ভারত সরকার। যদিও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন, একই সঙ্গে এসব ঘটনায় পাকিস্তানের ওপর দায় চাপানোরও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো সেদেশের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে বলছে, হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার একটি শাখা সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (আরটিএফ)।