ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলনে উপস্থাপিত জলবায়ু চুক্তির খসড়া প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এতে সুস্পষ্ট কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে সম্মেলনটি। খবর রয়টার্স।
ইইউর দাবি, খসড়া চুক্তিটি কার্যকরভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমাতে যথেষ্ট নয়। দুই সপ্তাহ ধরে চলমান সম্মেলনটি অ্যামাজনের বেলেমে শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্মেলনটি মূলত শুক্রবার সন্ধ্যায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ আলোচনার কারণে রাত পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
এ সম্মেলনের আয়োজক দেশ ব্রাজিল এটিকে বৈশ্বিক জলবায়ু সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে। দেশটি বলছে, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে জীবাশ্ম জ্বালানি, গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ এবং জলবায়ু অর্থায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হতে হবে। কপ৩০-এর সভাপতি আন্দ্রে কোর্রেয়া দো লাগো বলেন, ‘এটি এমন একটি এজেন্ডা হতে পারে না, যা আমাদের বিভক্ত করে। আমাদের মধ্যে সমঝোতা করতে হবে।’
উন্নয়নশীল দেশগুলো ইইউর অবস্থার প্রতিবাদ এবং ধনী দেশগুলোকে জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় আরো বেশি আর্থিক সহায়তা দিতে আহ্বান জানিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উন্নয়নশীল দেশের প্রতিনিধি বলেন, ‘যদি জীবাশ্ম জ্বালানির জন্য একটি পথ থাকে, তবে জলবায়ু তহবিলেরও একটি পথ থাকতে হবে।’
ইইউর ২৭ সদস্য দেশ বলেছে, পৃথিবীর উষ্ণায়ন রোধে খসড়া চুক্তিতে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেই। ইইউর জলবায়ু কমিশনার ওপকে হোয়েকস্ট্রা বলেন, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই আমরা এটি গ্রহণ করতে পারি না।’
ইইউ উন্নয়নশীল দেশে অর্থায়ন বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখালেও নিঃসরণ কমানোর পদক্ষেপ শক্তিশালী করার শর্ত দিয়ে ইইউর অংশগ্রহণকারীরা জানান, চুক্তি শক্তিশালী না হলে তারা সম্মেলন ছাড়তেও পারে।
গত শুক্রবার সকালে ব্রাজিলের প্রকাশিত খসড়া চুক্তি থেকে জীবাশ্ম জ্বালানি সম্পর্কিত অংশটি বাদ দেয়া হয়। এর আগে এ বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। প্রায় ৮০টি দেশ প্রাথমিকভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ করার পরিকল্পনার কথা বললেও পরে অনেক দেশ জানায়, এটি একটি পার্শ্ব চুক্তি করা যেতে পারে, যেখানে স্বেচ্ছায় দেশগুলো স্বাক্ষর করতে পারবে। বিশ্বের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের সবচেয়ে বড় উৎস হলো জীবাশ্ম জ্বালানি।
অন্যদিকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ২২টি জ্বালানি তেল ও গ্যাস উত্তোলনকারী দেশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জ্বালানি খাত এ আলোচনার বাইরে থাকবে। যদি এ খাত আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে আলোচনা আর নাও এগোতে পারে।
খসড়া চুক্তিতে ২০২৫ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু অভিযোজন তহবিল তিন গুণ করার প্রস্তাব জানানো হয়েছে।
এ অর্থায়ন ধনী দেশ থেকে সরাসরি আসবে নাকি উন্নয়ন ব্যাংক বা বেসরকারি খাত থেকে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। চূড়ান্ত চুক্তি গ্রহণে প্রায় ২০০টি দেশকে একমত হতে হবে, যা এখনো অনিশ্চিত।
এ সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরে কোর্রেয়া দো লাগো বলেন, ‘বিশ্ব আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এ সময়ে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে আমাদের বৈশ্বিক ঐক্য প্রদর্শন গুরুত্বপূর্ণ।’










