পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর মার্কিন নাগরিকদের ভারতশাসিত কাশ্মীর ও ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে বুধবার এ সতর্কতা প্রকাশ করা হয়। এতে জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলা ও সহিংস বেসামরিক অস্থিরতার আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে। পেহেলগামে মঙ্গলবারের সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন পর্যটক। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর এটিই কাশ্মীর উপত্যকায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। এর পরই এ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতে বলা হয়েছে, ‘জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলা ও সহিংস অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে। এ রাজ্যে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন (লাদাখের লেহ শহর বাদে)। ভারত-পাকিস্তান লাইন অব কন্ট্রোল (এলওসি) সংলগ্ন এলাকায় এবং কাশ্মীর ভ্যালির পর্যটন স্থান—শ্রীনগর, গুলমার্গ ও পেহেলগামেও সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে।’
একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে না যাওয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে, কারণ ওই এলাকায় সশস্ত্র সংঘর্ষের ঝুঁকি রয়েছে।
ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে মণিপুর এবং মধ্য ও পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশেও। বার্তায় আরো বলা হয়েছে, মাওবাদী চরমপন্থী গোষ্ঠী অথবা নকশালপন্থীরা ভারতের একটি বিশাল অঞ্চলে সক্রিয়। এরা স্থানীয় পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে অনেক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। এদের হুমকির তীব্রতার কারণে মার্কিন কর্মকর্তাদের বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় এবং উড়িষ্যা রাজ্যের বেশির ভাগ অঞ্চলে ভ্রমণের আগে অনুমতি নিতে হবে। তবে তারা যদি কেবল এ রাজ্যগুলোর রাজধানী শহরে ভ্রমণ করেন তবে অনুমতির প্রয়োজন নেই। মার্কিন কর্মকর্তাদের জন্য মহারাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল এবং মধ্যপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলে ভ্রমণেও অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। সহিংসতা এবং অপরাধের হুমকির কারণে মণিপুর ভ্রমণেও সর্বোচ্চ চতুর্থ মাত্রার সতর্কতা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এছাড়া, জাতিগত বিদ্রোহীদের মধ্যে সহিংসতার কারণে উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু এলাকায় ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। বলা হয়েছে, ভারতে ভ্রমণকারী মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যে ভ্রমণের আগে এবং আসাম, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মেঘালয় ও ত্রিপুরার রাজধানী শহরগুলোর বাইরের যেকোনো এলাকা পরিদর্শনের সময় পূর্বানুমতি নিতে হবে।










