চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করায় নির্ধারিত সময়ের আগেই মালদ্বীপ থেকে অর্ধেক সৈন্য সরিয়ে নিয়েছে ভারত।
মালদ্বীপ তার বিলাসবহুল পর্যটন আকর্ষণ, বিশেষ করে এর আদিম সাদা বালির সৈকত এবং স্ফটিক-স্বচ্ছ জলের জন্য বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত।একটি পর্যটন গন্তব্য হিসেবে এর আবেদন ছাড়াও মালদ্বীপ পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধের সাথে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক শিপিং রুট বরাবর অবস্থানের কারণে কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।
মালদ্বীপে ভারতের প্রভাব হ্রাস করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে মুইজ্জুর নির্বাচনী বিজয়কে দায়ী করা হয়। ভারতের প্রতি তার অবস্থান নির্বাচনের সময় ভোটারদের সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিনি নিরক্ষরেখা জুড়ে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা১১৯২টি ক্ষুদ্র প্রবাল দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশটির সামুদ্রিক সীমানায় টহল দেয়ার জন্য মোতায়েন করা ৮৯ জন ভারতীয় সৈন্যের একটি গ্যারিসন ভেঙে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
মুইজ্জুর একজন মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মালদ্বীপ থেকে সোমবার (৬মে) ৫১ জন ভারতীয় সামরিক কর্মী চলে গেছে।
মালদ্বীপের প্রগতিশীল দল এবং গণ জাতীয় কংগ্রেস মুখপাত্র হিনা ওয়ালিদ বলেন, এখন পর্যন্ত দুটি প্ল্যাটফর্মে অবস্থানরত ৫১ জন সৈন্যকে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। তিনি সেদিন আরো জানান, শুক্রবার (১০ মে) দেশের সমস্ত ভারতীয় সেনাকে মালদ্বীপ থেকে প্রত্যাহার করা হবে।
প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু দায়িত্ব গ্রহণের পর তার অভিষেক রাষ্ট্রীয় সফরের গন্তব্য হিসেবে চীনকে বেছে নেন। এই সিদ্ধান্তটি মালদ্বীপের বৈদেশিক নীতির অগ্রাধিকারের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। নতুন মালদ্বীপের নেতাদের ভারতেই প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর করার ঐতিহ্য ভেঙে দিয়েছেন মুইজ্জু।
মালদ্বীপ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর লক্ষ্যে মুইজু চীনের সাথে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মালদ্বীপ ভারতের সাথে তার ঐতিহাসিক সম্পর্কের চেয়ে চীনের সাথে তার সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণে ভারত মালদ্বীপকে তার প্রভাব বলয়ের অংশ হিসেবে দেখে। সেই বলয় থেকে বেরিয়ে আসতেই প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে ভাবছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্চ মাসে, মালদ্বীপ চীনের সাথে একটি সামরিক সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এটি দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরো গভীর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এর প্রভাবেই ভারত দেশটি থেকে তার সৈন্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।
মালদ্বীপ ভারতের সাথে তার ঐতিহাসিক সম্পর্কের চেয়ে চীনের সাথে তার সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণে ভারত মালদ্বীপকে তার প্রভাব বলয়ের অংশ হিসেবে দেখে।
মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা মন্ত্রলালয় জানায়, চীনের সঙ্গে চুক্তিটি দৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাড়ানোর জন্য সাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির অধীনে চীন তার কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবে।
এদিকে ভারত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং মালদ্বীপের পাশাপাশি প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কায় চীনের প্রভাব নিয়ে ভারত চিন্তিত ছিল। তাই দেশটিতে ভারতের সেনা মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারত মহাসাগরে চীনের তৎপরতার ওপর নজরদারি করা।
প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে মালদ্বীপ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক শীতল হয়ে আছে। এরই মধ্যে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা জমির বুধবার (৮ মে) আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য নয়াদিল্লি সফরে যাচ্ছেন।










