সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে যাত্রার সময় মাঝ আকাশে একটি উড়োজাহাজের দুই পাইলটের মধ্যে মারামারি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু। স্থানীয় সময় বুধবারের এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজে একজন পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন এবং উড়োজাহাজটি যাত্রীসহ বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। খবর রয়টার্স।
নেতানিয়াহু বলেন, উড়োজাহাজে থাকা এক ইসরায়েলি যাত্রীর সঙ্গে আমি কথা বলেছি। ওই যাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ছুরিকাঘাতের পর উড়োজাহাজটি ঘূর্ণিতে পড়ে যায়। এক যাত্রী ও বিমানের একজন ক্রু সদস্য ককপিটে ঢুকে ছুরিকাঘাতকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওই সময় তিনি উড়োজাহাজের বিভিন্ন সিস্টেমে অচল করার চেষ্টা করছিলেন। পরে অন্য ক্রু সদস্যরাও ককপিটে প্রবেশ করে উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ স্থিতিশীল করেন।
নেতানিয়াহু জানান, ওই পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইসরায়েল নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, যেকোনো অতিরিক্ত সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে আমি নিরাপত্তা সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও বুধবারের ঘটনাকে হামলার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, হামলাকারীর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও রয়টার্স যাচাই করেছে। এতে উড়োজাহাজের ভেতরে রক্তাক্ত এক যাত্রী এবং পাইলটের ইউনিফর্ম পরা রক্তাক্ত এক ব্যক্তিকে দেখা যায়।
রয়টার্স নিশ্চিত করেছে, ভিডিওটি দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটের। ভিডিওতে থাকা এক ব্যক্তির বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আরেকটি ভিডিও পাওয়া গেছে। সেখানে একই রক্তাক্ত পোশাক পরা আরেক ব্যক্তিকে বিমানের আসনে বসে থাকতে দেখা যায়। আসনের অবস্থান দেখে ভিডিওটি একই উড়োজাহাজের বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে ভিডিওটির কোনো পুরনো সংস্করণ অনলাইনে প্রকাশিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, উড়োজাহাজটির ‘ফ্লাইট ডেকে একটি হাতাহাতির ঘটনা’ ঘটে। দায়িত্বে থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের ক্রুরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে নেয়া হয় এবং নিরাপদে অবতরণ করানো হয়। বিমানের সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে আছেন এবং তাদের হিসাব পাওয়া গেছে।
ফ্লাইদুবাই বলেছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য এখনো জানা যায়নি এবং বিষয়টি আনুষ্ঠানিক তদন্তাধীন। কর্তৃপক্ষ তথ্য সংগ্রহের সময় ‘আগাম কোনো ধরনের অনুমান’ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
যাত্রী ও ক্রুদের সরিয়ে নিতে তাবুকে দুটি বিকল্প উড়োজাহাজ পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে এয়ারলাইনটি। তাদের নিয়মিত অন্যান্য ফ্লাইট পরিচালনায় এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়েনি।










