সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় এল ফাশের শহরে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মী সংগঠন ‘এল ফাশের রেজিস্ট্যান্স কমিটি’ জানিয়েছে, হামলাটি করেছে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
সংগঠনটির বিবৃতি অনুযায়ী, শহরের একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত ‘দার আল-আরকাম’ নামের আশ্রয়কেন্দ্রে হামলাটি চালানো হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেক মরদেহ আটকে রয়েছে। একে ‘নৃশংস হত্যাযজ্ঞ’ অভিহিত করে দ্রুত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে কমিটি।
স্থানীয় কর্মীরা জানিয়েছেন, নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। হাসপাতালগুলো আহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আরএসএফ ও সুদানি সেনাবাহিনীর মধ্যে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে এল ফাশের শহর দীর্ঘ ৫০০ দিনের বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ। খাদ্যসংকট ও অনাহারে হাজারো পরিবার দিন কাটাচ্ছে। জাতিসংঘ বলেছে, এ যুদ্ধ ২১ শতকের ভয়াবহ মানবিক সংকট। দেশজুড়ে প্রায় এক লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, আরএসএফের ধারাবাহিক হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করলেও কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে।
রেজিস্ট্যান্স কমিটি সতর্ক করে বলেছে, আন্তর্জাতিক সমাজ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এল ফাশের শহর একটি গণকবর হয়ে উঠবে। বর্তমানে দেশজুড়ে আরএসএফ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।










