হামাস-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর গত চার মাসে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রাণহানি ২৯ হাজার ছাড়িয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য  জানিয়েছে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। খবর আনাদোলু এজেন্সি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন উপত্যকাটির ২৯ হাজার ৯২ জন ফিলিস্তিনি। যাদের বেশির ভাগই বেসামরিক নারী এবং শিশু। এছাড়া গত চার মাসে আহত হয়েছে ৬৯ হাজার ২৮ জন। এছাড়া জাতিসংঘ জানিয়েছে, এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে, ইসরায়েলি অবরোধের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের আকাশ ও স্থল হামলায় বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৮৫ শতাংশ বাসিন্দা। এছাড়া এদের বেশির ভাগই প্রতিদিন খাবার পানি এবং খাদ্যের তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। অন্যদিকে তেল আবিবের অবরোধে বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটে পড়েছে গাজার হাসপাতালগুলো। গতকাল নাসের হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, সেখানে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে অন্তত ৭ জন রোগী প্রাণ হারিয়েছেন। গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ ঘরবাড়ি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এর আগে জাতিসংঘের আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ করেছ দক্ষিণ আফ্রিকা। জানুয়ারিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে তেল আবিবকে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত (আইসিজে)। এছাড়া গাজার বেসামরিক নাগরিকদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিতের লক্ষ্যেও কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তবে এসব আদেশ অমান্য করেই রমজানে গাজার দক্ষিণের শহর রাফায় হামলার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল।