গাজার জন্য মানবিক করিডোর খুলে দিতে এবং ইসরায়েলের অবৈধ অবরোধ ভাঙতে বার্সেলোনা থেকে আন্তর্জাতিক কর্মী ও মানবাধিকারকর্মীদের একটি দল যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। এ দলে রয়েছেন সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও। পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দলটির সঙ্গে যাত্রা করবেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
আয়োজক সংগঠন গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা জানিয়েছে, রোববার বার্সেলোনা বন্দর থেকে বহরটির যাত্রা শুরু হবে। তাদের মূল লক্ষ্য গাজার মানুষদের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া ও চলমান গণহত্যা বন্ধ করা। তবে কতগুলো জাহাজ অংশ নিচ্ছে বা যাত্রার সঠিক সময় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দলটি গাজায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্রাজিলের কর্মী থিয়াগো আভিলা বলেন, এবারের মিশন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংহতি কার্যক্রম হবে। এর আগে যত প্রচেষ্টা হয়েছে, তার সবকটিকে ছাড়িয়ে যাবে এই যাত্রা।
আয়োজকরা আরো জানিয়েছে, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর তিউনিসিয়া ও অন্যান্য ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর থেকেও একাধিক জাহাজ যাত্রা করবে। একই সময়ে ৪৪টি দেশে ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থুনবার্গ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শুধু কর্মী নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্য ও জননন্দিত ব্যক্তিত্বরাও এ যাত্রায় অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন বার্সেলোনার সাবেক মেয়র আডা কলাউ। পর্তুগালের বামপন্থি সাংসদ মারিয়ানা মর্টাগুয়া বলেন, ‘আমরা মনে করি এটি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বৈধ একটি মিশন।’
তবে এর আগেও ইসরায়েল এ ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। গত জুনে ১২ জন কর্মী নিয়ে ‘ম্যাডলিন’ নামের একটি নৌযান গাজা উপকূল থেকে ১৮৫ কিলোমিটার দূরে আটকায় ইসরায়েলি বাহিনী। যাত্রীদের মধ্যে থুনবার্গও ছিলেন। তখন তাদের আটক থেকে মুক্তি দেয়া হয়। গত জুলাইয়ে আরো একটি জাহাজ ‘হান্দালা’ নিয়ে ১০ দেশের ২১ জন কর্মী গাজার দিকে গেলে সেটিও ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে।
দলটির আয়োজকরা জোর দিয়ে জানিয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া ও আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যে থেকেই গাজার জনগণের পাশে দাঁড়ানো।










