কানাডায় পড়তে যাওয়া অভিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করছে কানাডা। একই সঙ্গে কিছু বিদেশী স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ওয়ার্ক পারমিটের ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে দেশটি। অভিবাসন মন্ত্রী মার্ক মিলার এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নতুন এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে কাজ করবে অটোয়ার কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এটি কোনো স্থায়ী সিদ্ধান্ত নয়। আবাসন সংকট নিয়ন্ত্রণে আগামী দুই বছরের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। খবর রয়টার্স।

কানাডার অভিবাসন মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি বছরে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৬০ হাজার শিক্ষার্থী প্রবেশ অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। গত বছর ২০২৩ সালে যত সংখ্যক বিদেশী শিক্ষার্থী প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছিল, শতকরা হিসেবে এ সংখ্যা তার চেয়ে ৩৫ শতাংশ কম। ।

মার্ক মিলার বলেন, ‘সম্প্রতি কানাডায় বেশ কিছু সাইনবোর্ড সর্বস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের কোনো যোগাযোগ নেই এবং শিক্ষা, ক্যাম্পাস, শিক্ষার্থীদের সুবিধা সংক্রান্ত সরকারের যেসব নীতি বা মান রয়েছে, সেসবের কোনোটিই প্রতিষ্ঠানগুলো মানছে না। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও তারা অতিরিক্ত ফি রাখছে। এ প্রতারণা চক্র বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন ‘এছাড়া অভিবাসীর সংখ্যা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় আবাসন, স্বাস্থ্য সেবা এবং অন্যান্য পরিষেবা খাতেও চাপ বাড়ছে। দুই বছরের মধ্যে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসবে বলে আমরা মনে করছি।’

প্রসঙ্গত , বাংলাদেশসহ বিশ্বের অভিবাসীদের কাছে অন্যতম শীর্ষ গন্তব্য উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা। পড়াশোনার পাশাপাশি ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কাজ করা তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল বলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছেও জনপ্রিয় গন্তব্য ছিল দেশটি। কানাডার অর্থনীতির জন্যও এটি বেশ লাভজনক। প্রতি বছর বিদেশী শিক্ষার্থীদের আগমন সংক্রান্ত বিভিন্ন খাত থেকে গড়ে ১ হাজার ৬৪০ কোটি ডলার যোগ হয় দেশটির অর্থনীতি। কিন্তু দেশটিতে চলমান আবাসন সংকটের কারণে বিদেশী শিক্ষার্থীদের দায়ী করা হচ্ছিল বেশ কিছুদিন ধরে। এর প্রেক্ষিতেই গত সোমবার বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমাতে দেশটি এমন সিদ্ধান্ত নেয়।

কানাডায় ক্ষমতাসীন লিবারেল সরকার গত বছরের আগস্টে বিদেশী শিক্ষার্থীদের ভিসার সংখ্যা সীমিত করার কথা প্রথম জানিয়েছিল। কিন্তু কানাডার আবাসনমন্ত্রী শন ফ্রেজার সে সময় বলেছিলেন, সরকার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে অভিবাসী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে কানাডায় যে তীব্র আবাসন সঙ্কট দেখা দিয়েছে সে সংকট এখনই মোকাবেলা করতে না পারলে জনপ্রিয়তা হারাবে জাস্টিন ট্রুডোর সরকার। সে কারণেই বিদেশী শিক্ষার্থীদের ওপর নানা রকম বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।