গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল-শিফা গোরস্থানে পরিণত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার। গতকাল সোমবার (১৩ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান। খবর বিবিসি।

লাগাতার ইসরায়েলি হামলা ও অবরোধের ফলে বন্ধ হয়ে গেছে এ হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস সরবরাহ না থাকায় রোগীদের মিলছে না চিকিৎসা সেবা, বেড়েছে প্রাণহানি।

আল-শিফার অকেজো হয়ে পড়ার খবরের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এমন মন্তব্য এসেছে।

হাসপাতালের বিছানায় ৬০০ জন রোগী রয়েছেন বলে জানান ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার। এছাড়া হাসপাতালের বারান্দায় মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন অনেক রোগী। 

ডব্লিউএইচওর এ কর্মকর্তা বলেন, হাসপাতালের এখানে সেখানে পড়ে আছে মৃতদেহ। কবরও দেয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালের কার্যক্রম আর আগের মতো নেই, এটি প্রায় গোরস্থানে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে হাসপাতালে মৃতদেহ পঁচে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন চিকিৎসকরা। শিফা হাসপাতালের চিকিৎসক ড. মুহাম্মদ আবু সেলমিয়া বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী হাসপাতাল ঘেরাও করে রেখেছে। তারা মৃতদেহও সরানোর অনুমতি দিচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের মাঠে ঢুকে মৃতদেহ খেতে শুরু করেছে কুকুর। কয়েক ডজন অপরিণত নবজাতক সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না।

অক্সিজেনের অভাবে শিশুদের মারা যাওয়ার খবরও দেন আল-শিফার এ চিকিৎসক।

আল-শিফার অবস্থান উত্তর গাজায়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বহিনীর (আইডিএফ) দাবি, এ হাসপাতালের নিচে হামাসের সুড়ঙ্গ ঘাঁটি রয়েছে। তবে হামাস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বরাবরই এসব কথা অস্বীকার করে এসেছে।