ইরানের বন্দর থেকে বেরিয়ে নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করায় সেন্ট কিটসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। গতকাল গভীর রাতে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, একাধিকবার সতর্ক করার পরও নির্দেশ অমান্য করে জাহাজটি। এর পর অচল করে দেয়া হয়েছে। খবর এপি।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে কয়েক মাস ধরে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে এ পদক্ষেপ কার্যকর রয়েছে। সর্বশেষ মাস খানেক আগে ওমান উপসাগরে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী।
গতকালের হামলাটির খবর এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন এর আগে অন্তত দুটি ঘটনায় ওই অঞ্চলে চালানো সামরিক হামলার কথা প্রকাশ করেনি সেন্টকম। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ হওয়ার পরও কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানান।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। একইসঙ্গে জাস্ক বন্দরে কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধেও তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি মার্কিন সামরিক বাহিনী।
গতকাল গভীর রাতে ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালি এলাকায় দুটি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার মাইনে আঘাত হেনে আগুন ধরে গেছে। তবে জাহাজ দুটির পতাকা বা গন্তব্য সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এর আগে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে নতুন করে সীমিত পরিসরে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযানকে ‘ছোটখাটো’ বলে বর্ণনা করেন তিনি।
কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে দফায় দফায় হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। প্রায় দুই মাস পর ইরানে আবারো পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে—মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আট মাসের বেশি সময় ধরে চলা এ যুদ্ধ বিশ্ববাজার ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও থমকে আছে। চলতি বছরের অক্টোবরে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সংখ্যা গত মার্চের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন অবরোধ তুলে নিতে ওয়াশিংটনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা হিসেবে ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বাড়িয়েছে।














