ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। একইসঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরান সরকারকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। খবর রয়টার্স।

ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ হিসেবে এসব নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এ অভিযানের লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে অর্থায়নের জন্য ইরানের জ্বালানি তেল বিক্রির সক্ষমতা বন্ধ করা।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের এক দিন পর নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এলো। নির্বাচনে দলটি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। ইরান যুদ্ধ এবং এর কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।

গত সপ্তাহে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তাদের পদক্ষেপে ইরানের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। দেশটির মুদ্রা রিয়ালের বিনিময় হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।

গতকালের নিষেধাজ্ঞায় ভারতের নাগরিক সুনীল কুমার শর্মা, তার স্ত্রী জাসপ্রিত প্রীতি শহিদ এবং তাদের দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আরো দুই ভারতীয় নাগরিককে লক্ষ্য করা হয়েছে। এছাড়া সুনীলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরো নয়টি প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সুনীলের নেতৃত্বাধীন এই বিস্তৃত অপরাধী নেটওয়ার্ক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজগুলোকে ইরানি পেট্রোলিয়াম পরিবহনে সহায়তা করেছে। এসব জাহাজের মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর হয়ে পরিচালিত জাহাজও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাহাজগুলোর ভুয়া পতাকা ও সনদ ব্যবহার করা হয়েছে।

এছাড়া চাপে থাকা ইরানের উড়োজাহাজ চলাচল খাতকে সহায়তার অভিযোগে তুরস্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস ইনকরপোরেশনকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, তেহরানকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ‘আপনারা কোথায় আছেন, তা আমরা জানি। স্থল, সমুদ্র কিংবা আকাশপথে যারা ইরানি শাসনব্যবস্থাকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে।’

নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (ওএফএসি) বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য সতর্কবার্তাও জারি করেছে। এতে ভুয়া পতাকা ব্যবহারকারী জাহাজের সঙ্গে ব্যবসা করার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।

গত ১৪ জুলাই ইরানের বন্দরগুলোয় নতুন অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ অবসানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়ার পর এ পদক্ষেপ নেয়া হয়। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর মার্কিন চাপ আরো বাড়ল।