ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা ও এর বন্দর দখলে নিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। এর ফলে লোহিত সাগরের দক্ষিণে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের প্রভাব আরো বেড়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও নতুন হুমকি তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির চার সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদ্রোহী হুথি গোষ্ঠী বাব আল-মান্দেব প্রণালি (লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার) নিয়ন্ত্রণে নিতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও হামলা চালাচ্ছে।

২৮ মার্চ ইসরায়েলে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে হুথিরা ইরানের পাশাপাশি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। তবে জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা এবং সেপ্টেম্বরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হামলা জোরদার করার আগ পর্যন্ত হুথিরা মূলত শান্তই ছিল।

বিশ্বের বৃহত্তম তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরব লোহিত সাগরের নৌপথের ওপর নির্ভর করছে। কারণ ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যে জলপথ দিয়ে একসময় বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ (২০%) পরিবহন হতো।

চীনের মধ্যস্থতায় সম্পর্কের বরফ গলার উন্নতির পরও রিয়াদ ও তেহরান দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং একে অপরকে গভীরভাবে অবিশ্বাস করে। এর মধ্যে গতকাল ওই অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। হুথিরা হামলা চালালে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চতুর্থবারের মতো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে জরুরি সতর্কতা জারি করে।

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ইরানের সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সংকট যাতে মারাত্মক আকার ধারণ না করে সে জন্য ইয়েমেনের হুথি মিত্রদের নিবৃত্ত করতে ইরানকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান। তবে এ বার্তার জবাবে ইরানি এক কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, হুথি বিদ্রোহীদের ওপর ইরানের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।