যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মিদের মুক্তির জন্য আলোচনা চলমান থাকা অবস্থাতেই রাফায় আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েল রাফায় আক্রমণ করলে গাজায় মৃতের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। খবর গার্ডিয়ান।
এদিকে প্যারিসে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় ইসরায়েল, কাতার, মিশর এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা কিছু প্রাথমিক রূপরেখার বিষয়ে একমত হয়েছেন, তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হননি।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সম্ভাব্য চুক্তি অনুযায়ী ৩০-৪০ জন জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে ৩০০ ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি এবং ছয় সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি দেবে ইসরায়েল।
মিশরীয়
নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে জানায়,
মূলত রমজান মাস এবং রাফায় আরো মর্মান্তিক রক্তপাত বন্ধ করাকে উদ্দেশ্য
করে ১০ মার্চ নাগাদ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিতে উভয় পক্ষকেই আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রাখা
হয়েছে। প্যারিসে প্রাথমিক
আলোচনার পর দোহা এবং
কায়রোতে পরবর্তী আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
ইসরায়েলের উপর্যুপরি আক্রমণে গাজার জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। গাজার ২৩ লাখ লোকের বেশিরভাগই ক্ষুধার্ত। নেই চিকিৎসাব্যবস্থা। যে কারণে তারা নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং অঞ্চলটিতে দ্রুত রোগ সংক্রমিত হচ্ছে। এদিকে ইসরায়েলি হামলায় গাজার ৩৪টি হাসপাতালের মধ্যে ২১টিই বন্ধ হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় রাফাতে হামাস যোদ্ধাদের ওপর আক্রমণের পরিকল্পনা করায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। কারণ রাফায় অসংখ্য অসহায় নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু পূর্ণ বিজয় অর্জনের লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়া নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাস যোদ্ধাদের সমূলে উপড়ে ফেলার জন্য রাফায় অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।
তিনি আরো বলেন,
হামাসকে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো চুক্তি হয় সেক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনা
কিছুটা পেঁছাতে পারে তবে সেটা বন্ধ হবে না।
এদিকে গাজায়
এখনো জিম্মি অবস্থায় আছে ১৩০ জন ইসরায়েলি নাগরিক। যদিও তাদের এক-তৃতীয়াংশ আর বেঁচে নেই
বলে ধারণা করছে ইসরায়েল।
এর আগে গত বছর
নভেম্বরে এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে ১০০ জন ইসরায়েলি
নাগরিককে মুক্তি দিয়েছিল হামাস।
সম্প্রতি হামাস
স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের মুক্তি দাবি করলেও সে দাবি মেনে নেয়নি ইসরায়েল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ইসরায়েলি হামলায় অক্টোবর থেকে গাজায় ২৯ হাজার ৬৯২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে যাদের দুই-তৃতীয়াংশ নারী ও শিশু, এছাড়া আহত হয়েছে ৬৯ হাজার ৮৭৯ জন।










