যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার পরও বেঁচে গেছেন ক্রিস্টা পাইক নামে এক নারী। স্থানীয় সময় বুধবার দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন পুশ করলেও শ্বাস নিতে দেখা যায় তাকে। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়।

দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, এদিন রাত ৮টার দিকে ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার শরীরে দুই দফা 'পেন্টোবারবিটাল' নামে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। তবে এতে তার মৃত্যু না হওয়ায় দুই বারই সাক্ষীদের কক্ষের পর্দা বন্ধ করে দেয়া হয়। এমনকি একপর্যায়ে সাংবাদিকদেরও সেখান থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়।

এদিকে এ পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে সাজা স্থগিতের জন্য আদালতে আবেদন করেন পাইকের আইনজীবীরা। আবেদনে বলা হয়, পাইক অচেতন হয়ে গেছেন, কিন্তু তার হৃদস্পন্দন এখনো রয়েছে এবং তার নাক ডাকার শব্দ শোনা যাচ্ছে। পরে জেলা জজ ক্লিফটন এল ককার জানান, চিকিৎসাকর্মীরা পাইকের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া শুরু করেছেন। তাকে কারাগার থেকে একটি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

১৯৯৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দণ্ডিত হন পাইক। এরপর দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কারাগারে ছিলেন তিনি। বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা ছিল।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পাইকের আইনজীবীরা একাধিকবার আদালতের দ্বারস্থ হন। তারা যুক্তি দেন, শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্যসহ তার জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ পরিষ্কার করে দেয়। টেনেসির গভর্নর বিল লিও তার ক্ষমা প্রার্থনার আবেদনও নাকচ করেন। এটি কার্যকর হলে ২০০ বছরের বেশি সময় পর টেনেসিতে কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো।

চলতি বছর টেনেসিতে এটি দ্বিতীয় ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। এর আগে মে মাসে হত্যার দায়ে দণ্ডিত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা বাতিল করা হয়। তার শরীরে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়ার উপযুক্ত শিরা খুঁজে না পাওয়ায় কারা কর্মকর্তারা ওই প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেন।