যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রখ্যাত নেতা জেসি জ্যাকসন (৮৪) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের বাবা ছিলেন একজন সেবক ও নেতা। কেবল আমাদের পরিবারের জন্যই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে যারা নিপীড়িত, কণ্ঠহীন এবং অবহেলিত, তাদের সবার নেতা ছিলেন তিনি।

এতে আরো বলা হয়েছে, ন্যায়বিচার ও সমতার প্রতি তার (জ্যাকসন) অবিচল বিশ্বাস লাখ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি যে আদর্শ নিয়ে বেঁচে ছিলেন, সেই লড়াই অব্যাহত রাখার মাধ্যমেই তাকে শ্রদ্ধা জানাতে আপনাদের প্রতি অনুরোধ করছি।

পরিবার থেকে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ২০১৭ সালে জ্যাকসন জানিয়েছিলেন, তিনি দীর্ঘস্থায়ী স্নায়বিক রোগ পারকিনসনে ভুগছেন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউরোডিজেনারেটিভ কন্ডিশনের (স্নায়বিক রোগ) কারণে গত নভেম্বরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল।

জেসি জ্যাকসন ১৯৬০ এর দশক থেকে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। একজন সুবক্তা ও আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসায় সফল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন জ্যাকসন। গত ছয় দশক ধরে মার্কিন জাতীয় রাজনীতিতে আফ্রিকান-আমেরিকানদের জন্য সুযোগের পরিধি বাড়াতে কাজ করেছেন। ১৯৮০ এর দশকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য তিনি দুবার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেন। ২০০৯ সালে বারাক ওবামা দায়িত্ব নেয়ার আগ পর্যন্ত জ্যাকসন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি।