বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কেমিক্যাল অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। অভিযানে মেসার্স এম আর ট্রেডার্সের গুদামে প্রায় ৮১ দশমিক ৬ টন কেমিক্যাল ও অন্যান্য কাঁচামালের মজুদ পাওয়া গেছে। এসব পণ্যের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, গতকাল পরিচালিত এ অভিযানে গুদামে সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইটসহ বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল পাওয়া যায়। তবে প্রতিষ্ঠানটি এসব পণ্য ক্রয়, আমদানি কিংবা বৈধভাবে মজুদের স্বপক্ষে কোনো দলিল দেখাতে পারেনি।
একই অভিযোগ যাচাইয়ে সিম ফেব্রিক্স লিমিটেডেও অভিযান চালায় কাস্টমস গোয়েন্দা। প্রতিষ্ঠানটি ১৭ অক্টোবর ভারত থেকে ৪৫ টন সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট বন্ড সুবিধায় আমদানি করেছিল। কিন্তু অভিযানে আমদানি করা কেমিক্যালের মজুদ সরেজমিনে দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কেমিক্যাল উৎপাদনকাজে ব্যবহার না করে খোলাবাজারে সরিয়ে নেয়া হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা।
একদিকে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কেমিক্যালের হদিস দিতে পারছে না সিম ফেব্রিক্স, অন্যদিকে নন-বন্ডেড গুদামে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যালের মজুদ থাকলেও তার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি এম আর ট্রেডার্স। এ দুই ঘটনার মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র এবং সরকারের শুল্ক-কর ফাঁকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, মজুদ পাওয়া কেমিক্যালের প্রকৃত উৎস, আমদানি ও ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার এবং সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত চলছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, শুল্কমুক্ত কাঁচামালের অবৈধ বাজারজাত এবং রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।










