যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রক্ষণশীল বেশকিছু নীতির খসড়া পরিকল্পনা নিয়েছে রিপাবলিকান পার্টি, যে প্রকল্পের নাম প্রজেক্ট ২০২৫। মার্কিন পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতির খোলনলচে পাল্টে দেয়ার এ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এ সপ্তাহেই বাইডেন বলেছেন, প্রজেক্ট ২০২৫ আমেরিকাকে ধ্বংস করবে।

প্রজেক্ট ২০২৫ কী

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলে যেসব নীতি গ্রহণ করা হবে তারই সংকলিত বিশদ রূপ হলো প্রজেক্ট ২০২৫। ট্রাম্পের শাসনামলের প্রথম দিকে সরকারি পদগুলোয় রাজনৈতিকভাবে নিযুক্ত করা হবে বলে প্রকল্পটিতে কয়েক হাজার রক্ষণশীলের নাম দেয়া আছে। এছাড়া নির্বাহী আদেশ ও বিভিন্ন সংস্থার বিধিমালার খসড়াও আছে প্রজেক্ট ২০২৫-এ, যেগুলো ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নীতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারবে রিপাবলিকানরা।

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সঙ্গে কি প্রজেক্ট ২০২৫ যুক্ত?

এর উত্তর একই সঙ্গে হ্যাঁ এবং না। কারণ কয়েক ডজন রক্ষণশীল সংগঠনের প্রস্তাব যাচাই করে ডানপন্থী থিংকট্যাংক হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে তৈরি প্রজেক্ট ২০২৫। গ্রুপটির সঙ্গে ট্রাম্পের প্রচারাভিযানের আনুষ্ঠানিক যুক্ততা নেই। ট্রাম্প নিজেও গত জুনের শুরুর দিকে এ ব্যাপারে জোর দিয়ে বলেছেন যে তিনি প্রজেক্ট ২০২৫ সম্পর্কে কিছুই জানেন না।

কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ নয়। কার্যত ট্রাম্পের বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ নীতিগত পরামর্শক এবং তিনি নির্বাচিত হলে তার প্রশাসনে যারা আসবেন তাদের অনেকেই প্রজেক্ট ২০২৫-এর সঙ্গে ব্যাপকভাবে জড়িত। উদাহরণস্বরূপ, ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা রুস ভট প্রজেক্ট ২০২৫-এ অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনের প্লাটফর্ম কমিটির পরিচালক তিনি।

প্রজেক্ট ২০২৫-এর প্রধান প্রস্তাব কী কী

প্রজেক্ট ২০২৫-এর নীতিগত পরামর্শগুলো বৈশ্বিক নীতি থেকে শুরু করে শিক্ষা পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রস্তাবে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রধান বৈশ্বিক উদ্বেগ’ হিসেবে বর্ণনা করে মার্কিন মিত্রদের ওপর চীনের খবরদারি প্রতিরোধ করার কথা আছে।

প্রকল্পে আছে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডার বৃদ্ধি ও পারমাণবিক অস্ত্রের আধুনিকায়ন, নতুন অস্ত্র উৎপাদনের কথা। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ১ কোটির বেশি কাগজপত্রহীন অভিবাসীকে গণহারে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা অন্য স্থানে নির্বাসনসহ আন্তর্জাতিক সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে সংকুচিত করার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে।

অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে প্রকল্পটিতে পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধ, ডাকযোগে গর্ভপাতের বড়ি সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ ও রাজ্যগুলোকে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আরো নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে বৈচিত্র্য বাড়ানোর কর্মসূচি বাতিল ও পরিবেশগত বিধিবিধান ব্যাপক মাত্রায় বর্জনকে সমর্থন দেয়া হয়েছে।

প্রকল্পের প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে কি ট্রাম্প একমত 

প্রকল্পটির অনেক প্রস্তাবের সঙ্গেই ট্রাম্প একমত, তবে সবগুলোর সঙ্গে নন। কার্যত তার প্রচারাভিযানে নীতিনির্ধারণের জন্য ছোট একটি দল আছে। নিজেকে সরকারের বিভিন্ন পদে রাজনৈতিক নিয়োগকারীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়ানোর ক্ষমতা দেয়া এবং শিক্ষা অধিদপ্তরকে বাদ দেয়ার মতো প্রকল্পটির অনেক প্রস্তাবের সঙ্গেই তিনি একমত। তবে অনেকগুলোর সঙ্গেই তিনি একমত নন যেমন গর্ভপাতের বড়ির ওপর নিষেধাজ্ঞা।

ট্রাম্পের প্রচারণা চালানো দল বেশ কয়েকবারই প্রজেক্ট ২০২৫ সম্পর্কে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছে যে, প্রকল্পের প্রস্তাবগুলো নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক নীতি থেকে আলাদা।