স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহামাদ আলীর চলে যাওয়া যেন কিছুতেই মানতে পারছেন না মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। দীর্ঘ সাত দশক ধরে ছায়া হয়ে পাশে থাকা জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে মারা যান সিতি হাসমাহ। তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। একইদিন সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পুত্রাজায়ার পুসারা নেগারা বা জাতীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিন মালয়েশিয়ার সাবেক রাজা ও পাহাংয়ের শাসক সুলতান আবদুল্লাহ রিয়ায়াতউদ্দিন আল-মুস্তাফা বিল্লাহ শাহ সিতি হাসমাহর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গেলে মাহাথিরের সঙ্গে তার কথা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাদের সেই মূহুর্তের কথোপকথন উঠে আসে।
পাহাংয়ের শাসকের সঙ্গে কথা বলার সময় মাহাথির বলেন, আমি ভাবতে পারিনি, তিনি আজ (সোমবার) মারা যাবেন। গত রাতেও তিনি বেশ ভালোই ছিলেন। এ সময় সুলতান আবদুল্লাহর সঙ্গে তার স্ত্রী তুনকু আজিজাহ আমিনাহ মাইমুনাহ ইস্কান্দারিয়াহ এবং ছেলে তেংকু হাসানাল ইব্রাহিম আলম শাহও ছিলেন।
সিতি হাসমাহর শেষকৃত্য ঘিরে মালয়েশিয়াজুড়ে নেমে আসে শোকের আবহ। পারিবারিক বাসভবন থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো এবং নামাজে জানাজার জন্য তামান সুংগাই বেসি ইন্দাহর মসজিদ আস-শরিফে নেয়া হয় তার মরদেহ। সেখানে হাজারো মানুষ জড়ো হন। মসজিদের ভেতরের পাশাপাশি আশপাশের এলাকাও কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সময় মাহাথিরকে বিষন্ন দেখাচ্ছিল। স্ত্রীর মরদেহের দিকে কিছুক্ষণ নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। এরপর তিনি জানাজার নামাজে অংশ নেন।
মালয় মেইল-এর প্রতিবেদন অনযায়ী, মোটরচালিত হুইলচেয়ারে বসা মাহাথিরের নাকে ছিল অক্সিজেনের নল। শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও স্ত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে পুরো সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছিলেন তিনি।
পরে সিতি হাসমাহর মরদেহ নেয়া হয় পুত্রজায়ার ২০ নম্বর প্রিসিঙ্কটের ন্যাশনাল সিমেট্রিতে। মোটরচালিত হুইলচেয়ারে বসেই স্ত্রীর দাফনের পুরো প্রক্রিয়া দেখেন মাহাথির। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন।
দাফনের পর সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিতি হাসমাহর দ্বিতীয় ছেলে মোখজানি মাহাথির (৬৫)। তিনি বলেন, মৃত্যুর আগের রাতেও মা ভালো মেজাজে ছিলেন। তবে সোমবার সকালে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডেকে আরেক ছেলে মুখরিজ মাহাথির (৬১) বলেন, মায়ের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত পাশে ছিলেন বাবা। সোমবার সকাল ৮টার দিকে মায়ের হৃদযন্ত্রে জটিলতা দেখা দেয়। পরে চিকিৎসকরা তার ওপর কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) প্রয়োগ করেন। মায়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মা সবসময় মানুষ ও দেশের কথা অগ্রাধিকার দিয়েছেন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও তিনি তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বেরিতা হারিয়ানেকে মাহাথিরের মেয়ে মারিনা মাহাথির (৬৯) বলেন, বাবা শারীরিকভাবে ভালো আছেন। তবে জীবনের দীর্ঘদিনের সঙ্গীকে হারিয়ে তিনি শোকাহত। ৭০ বছর ধরে মা তার সঙ্গী ছিলেন। তাকে হারিয়ে এখন একাকিত্ব অনুভব করছেন বাভা।
সিঙ্গাপুরের তৎকালীন কিং এডওয়ার্ড সপ্তম কলেজ অব মেডিসিনে চিকিৎসাশাস্ত্রের শিক্ষার্থী থাকাকালে মাহাথির ও সিতি হাসমাহর পরিচয় হয়। পরে ১৯৫৬ সালে তাদের বিয়ে হয়। চলতি বছরের আগস্টে তারা দাম্পত্য জীবনের ৭০ বছর পূর্তি উদযাপন করেন।










