ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করেছে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)। বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের উপস্থিতিকে অবৈধ ঘোষণা দিয়েছে আইসিজে। সেখানে ইসরায়েলের দখলদারিত্বসহ সব কার্যক্রম বন্ধ এবং ১৯৬৭ সাল থেকে অদ্যাবধি হওয়া ক্ষতির জন্য ফিলিস্তিনিদের জরিমানা দিতে হবে। তাদের সব জমি ও সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে।
একে যুগান্তকরী রায় হিসেবে দেখছেন ফিলিস্তিনিরা। ফিলিস্তিনির স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক আদালতের এ রায় প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু আইসিজের এ রায়ের নিন্দা জানিয়েছেন।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা থামছেই না। ইসরায়েলি আক্রমণকারীরা শনিবার ভোরে গাজা উপত্যকাজুড়ে অন্তত ২৫ জনকে হত্যা করেছে। এর আগে শুক্রবার রাতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা হেবরনে বসবাতরত এক ফিলিস্তিনি পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দুই সপ্তাহ আগে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি যুবক ইব্রাহিম আওয়াদ গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়ে মারা যান।
এছাড়া অবরুদ্ধ গাজায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। গতকাল শনিবার সেভ দ্য চিলড্রেন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাজায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধে ২১ হাজার শিশু নিখোঁজ রয়েছে। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস সূত্রে বলা হয়েছে, ১৫৮ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী গাজা উপত্যকায় নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সংস্থার মতে, জাতিসংঘের ১৯৭ কর্মী মারা গেছেন। জাতিসংঘের মতে, এখন পর্যন্ত ১৯ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের অধিবাসীদের হাতে ৫৭৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। প্যালেস্টিনিয়ান কমিশন অব ডিটেইনিসের মতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৫৪ কারাবন্দিকে হত্যা করা হয়েছে। প্রিজনারস সোসাইটির তথ্যানুযায়ী, ৯ হাজার ৭০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরে কারাবন্দি রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ঢুকে হামাসের প্রাণঘাতী হামলার জবাবে উপত্যকায় প্রায় বিরামহীন আক্রমণ হামলা যাচ্ছে ইসরায়েল। হামাসের ওই হামলায় নিহত হয় ১ হাজার ২০০ জনের মতো ইসরায়েলি। ওইদিন দুই শতাধিক ইসরায়েলিকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে আসে হামাস। ওই হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। তাদের হামলা থেকে রেহাই পায়নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মসজিদ কিংবা গির্জার মতো বেসামরিক স্থাপনা। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলের আক্রমণে ৩৮ হাজার ৮৪৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশ নারী ও শিশু।
গাজায় শিশুদের ওপর হামলার কারণে গত মাসে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করে জাতিসংঘ। গত ৮ জুন গাজায় সশস্ত্র সংঘাতে শিশু হত্যার বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের বার্ষিক প্রতিবেদনে ইসরায়েলকে কালো তালিকায় রাখার বিষয়ে ছয় ধরনের সহিংসতার কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো হত্যা ও বিকলাঙ্গ করা, যৌন সহিংসতা, অপহরণ, শিশুদের নিয়োগ ও ব্যবহার, সাহায্য প্রবেশে অস্বীকার এবং স্কুল ও হাসপাতালে হামলা।










