যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সের অরলিন্স জাস্টিস সেন্টার থেকে চাঞ্চল্যকর উপায়ে পালিয়েছে ১০ জন কয়েদি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কয়েদিরা টয়লেটের পেছনে করা একটি গর্ত দিয়ে বেরিয়ে নিরাপত্তা প্রাচীর পেরিয়ে পালিয়ে যায়। তখন কারা কর্মকর্তাদের কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রহরী তখন খাবার আনতে বাইরে গিয়েছিলেন। খবর এপি।
পালিয়ে যাওয়া কয়েদিদের মধ্যে কয়েকজন হত্যা মামলার আসামি, যাদের মধ্যে একজন এরইমধ্যে দুই খুনে দণ্ডিত। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েদিরা কম্বল ব্যবহার করে কাঁটাতারের ওপর দিয়ে পালিয়েছে। কেউ কেউ সোজা মহাসড়ক পেরিয়ে ঢুকে পড়ে আশপাশের এলাকায়। এক কয়েদির সেলে টয়লেটের পেছনে থাকা গর্তটির ওপর জেলখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কটাক্ষ করে লেখা ছিল ‘ঠু ইজি লোল’, অর্থাৎ জেল পালান তাদের জন্য অত্যন্ত সহজ ছিল।
অভিযুক্তরা রাত ১টার দিকে পালালেও কর্তৃপক্ষ তা বুঝতে পারে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে, রুটিন গণনার সময়। প্রথমে ১১ জন পালানোর কথা বলা হলেও পরে জানা যায়, একজন অন্য একটি সেলে ছিলেন।
পালিয়ে যাওয়া ১০ জনের মধ্যে শুক্রবার রাত পর্যন্ত ২ জনকে আটক করা হয়েছে। ২০ বছর বয়সী কেন্ডাল মাইলস ফ্রেঞ্চ কোয়ার্টারে ধরা পড়েন। তিনি অতীতেও দুইবার কিশোর সংশোধনাগার থেকে পালিয়েছিলেন। অপর এক বন্দি রবার্ট মুডিকে ক্রাইমস্টপার্সের একটি তথ্যের ভিত্তিতে খুঁজে বের করা হয়।

জেলখানার শেরিফ স্যুজান হাটসন বলেন, কয়েদিরা পুরনো ও নষ্ট তালার সুযোগ নিয়েছে। এমনকি অভ্যন্তরীণ কারা বিভাগের কেউ কেউ সহায়তা করে থাকতে পারেন বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এই জেল থেকে সাহায্য ছাড়া পালানো প্রায় অসম্ভব।‘
তদন্তে জানা গেছে, টয়লেটের পিছনের ইস্পাত বার কেটে বের হওয়ার পথ তৈরি করা হয়। কেউ কেউ সাধারণ পোশাক পরে বাইরে চলে যেতে সক্ষম হয়। তবে তারা পোশাক পেল কীভাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনজন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে কে সহায়তা করেছেন তা এখনো তদন্তাধীন। অরলিন্স পারিশ ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেসন উইলিয়ামস বলেছেন, এই ঘটনা কারা ব্যবস্থার চূড়ান্ত ব্যর্থতা। লুইজিয়ানা অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিল বলেন, ‘জনগণকে সতর্ক করতে অনেক দেরি করা হয়েছে, যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।‘
এফবিআই ও মার্কিন মার্শালের সহায়তায় পুলিশের তল্লাশি চলছে। যেসব সাক্ষীরা ঝুঁকিতে আছেন, তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। এরইমধ্যে একটি পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
নিউ অরলিন্সের জেল ২০১৩ সাল থেকে ফেডারেল নজরদারিতে রয়েছে। নতুন জেল ভবন নির্মাণ হলেও নিরাপত্তাজনিত সমস্যার সমাধান হয়নি।
বর্তমানে এই জেলে প্রায় ১,৪০০ কয়েদি রয়েছে, কিন্তু মাত্র ৬০ শতাংশ জনবল নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। জেল ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় তালা-মেরামত ও অবকাঠামো উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।










