গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় থাকা তিন সাংবাদিককে ‘অপহরণ’ করার অভিযোগে ইসরায়েলের নিন্দা করেছে রিপোর্টার্স উইটআউট বর্ডারস (আরএসএফ)। আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলের সময় ইসরায়েল গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার এবারের বহরটি আটকে দেয়। খবর আল জাজিরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল এক পোস্টে আরএসএফ বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অপহরণের নিন্দা জানাই আমরা।

অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন ফরাসি সংবাদদাতা হাফেদ ম্রিবাহ ও তুর্কি ক্যামেরাম্যান মাহমুত ইয়াভুজ, তারা দুজনই আল জাজিরার সঙ্গে কাজ করেন। এছাড়া রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম জিটিওর সাংবাদিক অ্যালেক্স কোলস্টন।

এক বিবৃতিতে আল জাজিরা বলছে, হাফেদ ও মাহমুদের নিরাপত্তার জন্য আমরা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী করছি। বারবার আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানাচ্ছি।

বহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে আল জাজিরা আরো বলেছে, আমরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি এবং সব সাংবাদিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে তারা বাধাহীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

আয়োজকদের দাবি, বুধবার গভীর রাতে গাজামুখী ৫৮টি জাহাজের মধ্যে ২২টিকে গ্রিসের পেলোপনেস উপদ্বীপের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকে দেয় ইসরায়েল—যা ফিলিস্তিনি উপকূল থেকে শত শত মাইল দূরে।

আয়োজকরা জানান, মোট ২১১ জনকে আটক করা হয়েছে। ইসরায়েল বলেছে, আটক ব্যক্তিদের গ্রিসে পাঠানো হবে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ অভিযোগ করেছেন, ‘নিজস্ব জলসীমার বাইরে একটি বেসামরিক বহরে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল আবারও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।’

তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থগিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি আহ্বান জানান।

এর আগে গত অক্টোবরে গাজামুখী আরেকটি সহায়তা বহর আটকের দেয় ইসরায়েল। তখন আটক কর্মীদের অনেকে অভিযোগ করেছিলেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে। এর মধ্যে ছিল মারধর, জোর করে হাঁটু গেড়ে বসানো, চোখ বেঁধে রাখা এবং ঘুমাতে না দেয়া। যদিও ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস ফেব্রুয়ারিতে এক প্রতিবেদন করে। সেখানে ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর ইসরায়েলের কারাগারে আটক ৫৯ ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের সাক্ষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকদের ওপর নিয়মিতভাবে পদ্ধতিগত নির্যাতন চালানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে নির্যাতন, মারধর, যৌন সহিংসতা, অনাহার ও চিকিৎসায় অবহেলা।

সাক্ষাৎকার দেয়া অনেক সাংবাদিকই জানান, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছাড়াই প্রশাসনিক আটক অবস্থায় রাখা হয়েছে।