এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে গাজার খান ইউনিসে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত ১৬ জন। আহত হয়েছে আরো অনেকে। খবর আল জাজিরা।
গতকাল সোমবার গাজার পশ্চিম উপকূলের লোকদের সরে যেতে নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। নির্দেশ দেয়ার পর বেসামরিক নাগরিকদের এলাকা ত্যাগের কোনো সময়ই দেয়নি তারা। এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই হামলা চালায় তারা। আল জাজিরার দেয়া তথ্যমতে, নির্দেশনা আসার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হামলা হওয়ায় খান ইউনিস থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার ন্যূনতম সময়টুকুও পায়নি এলাকাটির বাসিন্দারা।
প্রসঙ্গত, গাজার পূর্ব উপকূল খালি করার নির্দেশ দেয়ার পর থেকে পশ্চিম উপকূলের দিকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসে গাজাবাসী। কিন্তু পশ্চিমেও একের পর এক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। তাই গাজাবাসী আবারো আল মাওয়াসিরের দিকে ছুটছেন।
এর আগেও অবরুদ্ধ গাজার বিভিন্ন ‘সেফ জোনে’ একের পর এক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এমনকি জাতিসংঘ ঘোষিত ‘মানবিক জোনেও’ হামলা চালিয়েছে আইডিএফ। ১৩ জুলাই একটি ‘মানবিক জোনে’ ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯০ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত ও ৩০০ জন আহত হয়। এ সময় গাজার কোনো অঞ্চলই নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেন জাতিসংঘ প্রধান আন্তোনিও গুতেরেজ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। সফরে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বৈঠকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে আরো বেশি সহায়তা দেয়ার আহ্বান জানাতে পারেন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলের সঙ্গে বাইডেনের বন্ধুত্ব এবং ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থনের পাশাপাশি আর্থিক ও অস্ত্র সহায়তা করায় বাইডেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হির্জগ।
গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ঢুকে হামাসের প্রাণঘাতী হামলার জবাবে উপত্যকায় প্রায় বিরামহীন আক্রমণ চালাচ্ছে ইসরায়েল। ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় নিহত হয় ১ হাজার ২০০ জনের মতো ইসরায়েলি। ওইদিন দুই শতাধিক ইসরায়েলিকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে আসে হামাস। ওই হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। তাদের হামলা থেকে রেহাই পায়নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মসজিদ কিংবা গির্জার মতো বেসামরিক স্থাপনা।
হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার। যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, ২১ হাজার শিশু চলমান যুদ্ধে নিখোঁজ হয়েছে। ৫০ হাজারের অধিক গর্ভবতী নারী আছে ফিলিস্তিনে। এত বিপুলসংখ্যক গর্ভবতী নারী ও আহত মানুষকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি। পাশাপাশি তীব্র খাদ্য ও নিরাপদ পানির সংকটেও আছে ফিলিস্তিন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।










