‘আমরা ভেবেছিলাম ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করবে। কিন্তু পুরো উৎপাদন শৃঙ্খল গত মাসে থেমে গেছে। এভাবে চললে শ্রমিকদের বেতন দেব কীভাবে?’—বলছিলেন ভারতের নামিলনাড়ু রাজ্যের রাফট গার্মেন্টসের মালিক শিবা সুব্রামানিয়াম।
তামিলনাড়ুর তিরুপপুরের বিশাল পোশাক রফতানি কেন্দ্র আগে থাকতো জমজমাট—মেশিনের গর্জন, কাপড় কাটার ছন্দ, আর শ্রমিকদের নিরবচ্ছিন্ন কোলাহলে ভরে থাকত চারদিক। অথচ এখন সেখানে নেমে এসেছে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা।
এখানকার উদ্যোক্তা এন কৃষ্ণমূর্তি জানান, তার প্রায় ২০০ মেশিনের মধ্যে কেবল অল্প কয়েকটি চলছে। নতুন ডিজাইনের কাপড়ের নমুনাগুলোতে ধুলো জমে আছে। তিনি সম্প্রতি কারখানার সম্প্রসারণ প্রকল্প থামাতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫০ কর্মীকেও অব্যাহতি দিতে হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ সময়ে এই সিদ্ধান্ত এসেছে, কারণ বছরে অর্ধেক বিক্রি হয় সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া বড়দিনের মৌসুমে। এখন তারা কেবল দেশীয় বাজার ও দীপাবলি মৌসুমের ওপর ভরসা করছেন। অন্য এক কারখানায় প্রায় ১০ লাখ ডলারের অন্তর্বাস মার্কিন বাজারের জন্য প্রস্তুত থাকলেও ক্রেতা মিলছে না।
সব মিলিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা ৫০ শতাংশ শুল্কে ভারতের রফতানি খাত বড় ধাক্কায় পড়েছে। এতে দেশটির পোশাক, চিংড়ি ও গয়নার বাজার কার্যত স্থবির হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
ভারতের মোট ১৬ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তিরুপ্পুর থেকে আসে। এখানকার শত শত কারখানায় টার্গেট, ওয়ালমার্ট, গ্যাপ ও জারার মতো বড় মার্কিন খুচরা ব্র্যান্ডের জন্য পোশাক সরবরাহ করা হয়। কিন্তু নতুন শুল্কের ঘোষণা আসার পর থেকেই সব ধরনের অর্ডার বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, সেপ্টেম্বরের পর থেকে উৎপাদনের মতো কোনো কাজ নাও থাকতে পারে।
এদিকে, নতুন শুল্ক আরোপে বাজারে প্রতিযোগিতায় ভারতের অবস্থা আরো দুর্বল হচ্ছে। আগে যেখানে ভারতীয় শার্ট মার্কিন বাজারে ১০ ডলারে বিক্রি হতো, শুল্কসহ এখন সেটি দাঁড়াবে ১৬ দশমিক ৪০ ডলারে। এর বিপরীতে চীনে দাম ১৪ দশমিক ২০ ডলার, বাংলাদেশে ১৩ দশমিক ২০ ডলার ও ভিয়েতনামে মাত্র ১২ ডলার। এমনকি যদি শুল্ক ২৫ শতাংশেও নেমে আসে, তাহলেও ভারত প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় পিছিয়ে থাকবে।
এই চাপ সামাল দিতে ভারত সরকার কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। যেমন, কাঁচামালের আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার। একই সঙ্গে বিকল্প বাজার খুঁজে পেতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির আলোচনাও জোরদার হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অনেক দেরিতে নেয়া উদ্যোগ। তাছাড়া এই উদ্যোগ যথেষ্টও নয়।
গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, মার্কিন ক্রেতারা এখন মেক্সিকো, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিবিসি অবলম্বনে।










