নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ওপর চাপ আরো বেড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে (১১ জুলাই) ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে উদ্ভট আচরণ করেছেন তিনি। ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে তিনি ভুল করে ‘ট্রাম্প’, আর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ‘পুতিন’ বলে সম্বোধন করেন।
এরপর নতুন করে কংগ্রেসের কয়েকজন ডেমোক্রেটিক সদস্য জো বাইডেনের সরে দাঁড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সব মিলিয়ে অন্তত ১৭ জন কংগ্রেসনাল ডেমোক্র্যাট তাকে বাদ দেয়ার জন্য এবং অন্য একজন যোগ্য প্রার্থী বাছাই করার ক্ষেত্রে পার্টিকে অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স।
এর আগে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টিভি বিতর্কে দুর্বল পারফরমেন্সের কারণে তাকে নিয়ে সমালোচনা হয়। তখনই কেউ কেউ তার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার বদলে অন্য কাউকে প্রার্থী করা যায় কিনা তার প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে কয়েকটি সংস্থা জরিপও করে। এসব জরিপে দেখা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে জো বাইডেনের চেয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে মতামত প্রদানকারীরা অধিক পছন্দ করেছেন।
ডেমোক্রেটিক দলের নেতারাও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন যে, আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জো বাইডেন পরাজিত করতে পারবেন কিনা এবং আগামী চার বছর হোয়াইট হাউসের নেতৃত্ব দিতে পারবেন কিনা।
কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, জো বাইডেনের দুর্বলতা পার্টির জনপ্রিয়তা কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ৮১ বছর বয়সী এই নেতার বয়স নিয়ে বার বার প্রশ্ন উঠছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পও টিভি বিতর্কের সময় এ প্রশ্ন তুলেছিলেন। ডেমোক্রেট সদস্যদের আশঙ্কা, ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে জিতলে হোয়াইট হাউসে তাদের কোনো প্রভাব থাকবে না।
যদিও গতকালের সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে জো বাইডেনের বক্তব্য ছিল জোরাল। তিনি রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং ইসরায়েল-গাজা সংঘর্ষসহ বৈশ্বিক সমস্যাগুলো নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। এগুলোকে বিশ্ব মঞ্চে তার কয়েক দশকের অভিজ্ঞতার স্মারক হিসাবে দেখা হচ্ছে।
এর পরও কিছু ডেমোক্র্যাট আশ্বস্ত হতে পারেন নি। কারণ, ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগান দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে কর্তৃত্ববাদের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছেন, তা মোকবিলা করার জন্য অবশ্যই অধিক শক্তিশালী প্রার্থীকে সামনে আনতে হবে বলে মনে করছেন তারা।
কানেকটিকাটের জনপ্রতিনিধি জিম হিমস বলেন, ‘আমি আর বিশ্বাস করি না যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জো বাইডেন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন।’ জিম হিমস সংবাদ সম্মেলনের পর জো বাইডেনকে তার নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডেমোক্রেটিক প্রচারাভিযান দলের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই পারফরম্যান্সকে পুরো বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ বলা যেতে পারে।’










