পেহেলগামে হামলায় পাকিস্তানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে নয়াদিল্লি সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিতসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়ার পর এবার পাল্টা পদক্ষেপ নিল ইসলামাবাদ। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্থগিত এবং ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকে গতকাল এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (পিএমও) থেকে পাঠানো বিবৃতিতে সিদ্ধান্তগুলো জানানো হয়েছে।
বৈঠকে পেহেলগামে হামলা-পরবর্তী জাতীয় ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে শাহবাজ শরিফের কার্যালয়ের দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। ভারতের নেয়া পদক্ষেপের পাল্টায় ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তি স্থগিত এবং ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধের কথাও বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ‘কেবল সিমলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে সব দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্থগিত রাখার অধিকার প্রয়োগ করবে, যতক্ষণ না ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাস উসকে দেয়া, সীমান্ত পেরিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানো এবং কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবগুলো লঙ্ঘনের মতো স্পষ্ট আচরণ থেকে বিরত হয়।’ ভারত যে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সমালোচনা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক এ চুক্তির কোথাও একতরফা চুক্তি স্থগিতের বিধান নেই।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পানি পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ, এর ২৪ কোটি লোকের লাইফলাইন। যেকোনো মূল্যে এর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হবে। সিন্ধু পানি চুক্তির অধীনে পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত পানির প্রবাহ বন্ধ বা অন্যদিকে সরিয়ে নেয়ার যেকোনো চেষ্টা এবং নিম্ন অববাহিকার জনগণের অধিকার হরণ যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য বিবেচনা করা হবে এবং জাতীয় শক্তির সর্বস্তরের পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা দিয়ে এর মোকাবেলা করা হবে।’ বাণিজ্য স্থগিতের ঘোষণায় তারা বলেছে, ভারতের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য স্থগিতের পাশাপাশি নয়াদিল্লিকে পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গেও বাণিজ্য করতে দেয়া হবে না। এছাড়া নয়াদিল্লির পাল্টা জবাবে ইসলামাবাদও দেশটিতে থাকা ভারতীয় দূতাবাসের সামরিক কর্মকর্তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পাকিস্তান ছাড়তে নির্দেশনা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে মঙ্গলবারের জঙ্গি হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ) নামে একটি সংগঠন দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি ভারতীয় গণমাধ্যম ও নিরাপত্তা সংস্থার। টিআরএফের পেছনে পাকিস্তানের সমর্থন আছে বলেও অভিযোগ নয়াদিল্লির। যদিও ইসলামাবাদ এ দাবি উড়িয়ে দিয়েছে।










