ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর শনিবার (১০ মে) সকালে পাকিস্তান তার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি তত্ত্বাবধানকারী শীর্ষ সংস্থা ‘ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি’র জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে। এর আগে পাকিস্তান দাবি করে, তারা উত্তর ভারতের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারসহ একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। খবর রয়টার্স।
ভারতীয় সেনাবাহিনী এই হামলাগুলোর পর এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তান সীমান্ত বরাবর ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ‘উস্কানিমূলক আগ্রাসন’ অব্যাহত রেখেছে এবং তারা পাকিস্তানের ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড’ প্রতিহত করবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক আন্তর্জাতিক শক্তি এই সংঘর্ষ বন্ধে কূটনৈতিক আহ্বান জোরদার করেছে, কারণ দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী এই মুহূর্তে গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনার মুখোমুখি।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দেশের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থাপনার শীর্ষ সংস্থা ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটির বৈঠক আহ্বান করেছেন। এই সংস্থাটি বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত, যারা পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা করছেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন কোনো সংঘাত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের দিকে গড়াতে পারে। এটি বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক এবং জনবহুল ‘পারমাণবিক ফ্ল্যাশপয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত।
পাকিস্তানের পরিকল্পনা মন্ত্রী আহসান ইকবাল এই উত্তেজনাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য ‘একটি বড় পরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা চাই না পারমাণবিক সীমা অতিক্রম হোক।‘
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের পারমাণবিক সংস্থার এই বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো আসফান্দইয়ার মিরের মতে, এটি এক ধরনের ‘সফট নিউক্লিয়ার সিগন্যাল’। পাকিস্তানের ‘ফার্স্ট ইউজ’ পারমাণবিক নীতির সঙ্গে এটি সঙ্গতিপূর্ণ।















