জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক অন্তত ৬৬টি সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার ( ৭ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ঘোষণা দেন। যেসব সংস্থা থেকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, একটি স্মারকে বুধবার সেগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। স্মারকে জাতিসংঘের বাইরের ৩৫টি এবং জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থার নাম রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক ডজন আন্তর্জাতিক এবং জাতিসংঘের সংস্থা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু চুক্তি এবং লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নকে উৎসাহিত করে জাতিসংঘের এমন একটি সংস্থাও রয়েছে। কারণ সংস্থাগুলো ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি’ কাজ করে।
এছাড়া জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ট্রাম্প। ইউএনএফপিএ ১৫০টির বেশি দেশে পরিবার পরিকল্পনা এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্র গত বছরই ইউএনএফপিএর তহবিল অনেকটা কমিয়ে দিয়েছিল।
জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনও (ইউএনএফসিসিসি) রয়েছে। অনেকেই এই সংস্থাকে ২০১৫ সালে হওয়া প্যারিস জলবায়ু চুক্তির ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন ন্যাচারাল রিসোর্সেস ডিফেন্স কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মনীশ বাপনা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হবে ইউএনএফসিসিসি থেকে বের হওয়া প্রথম দেশ।’
যুক্তরাষ্ট্র ‘ইউএন উইমেন’ থেকেও বের হয়ে যাবে। জাতিসংঘের এই সংস্থা লিঙ্গসমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করে।
স্মারকে বলা হয়েছে, ‘জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে প্রত্যাহার করে নেওয়ার অর্থ হলো আইন অনুযায়ী ওই সংস্থাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বা অর্থায়ন বন্ধ করা।’
ট্রাম্প জাতিসংঘের যেসব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন, সেগুলোর অধিকাংশের জন্য তহবিল বরাদ্দ আগেই অনেকটা কমিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
এখন যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণার বিষয়ে জাতিসংঘ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।










