যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটির কাছ থেকে বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অপরাধের সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। স্থানীয় সময় রোববার ভোরে ইংল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলের রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছ থেকে তিনটি ভ্যানসহ তাদের আটক করা হয়। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের ওই বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে আসছে মার্কিন সেনারা। খবর রয়টার্স।
এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আটক ব্যক্তিরা ‘বড় ধরনের ক্ষতি’ করার পরিকল্পনা করছিলেন। ব্রিটিশ ও মার্কিন কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই তাদের বিষয়ে তদন্ত করছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
ব্রিটিশ কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, রোববার ভোরে তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের দিকে যাচ্ছে বলে পুলিশকে জানানো হয়। পরে সশস্ত্র পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশের সিনিয়র ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর ভিকি ইভান্স বলেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পাঁচজনই পুলিশের হেফাজতে আছেন। ঘটনার পরিস্থিতি বোঝার জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে পুলিশ।
ব্রিটিশ পুলিশ জানিয়েছে, ঘাঁটির নিরাপত্তায় এর চারপাশে ৪০০ মিটারের নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। আটক ভ্যানগুলো পরীক্ষা করতে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল কাজ করছে। কাছের একটি গ্রামের ৮৫টি বাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এলাকায় সশস্ত্র পুলিশও মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ আক্রমণে ব্যবহৃত ইরানি মিসাইল সাইটগুলোয় হামলা চালানোর জন্য ফেয়ারফোর্ডে থাকা মার্কিন বোমারু বিমান ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে নিয়মিত পরিস্থিতি জানানো হচ্ছে।
এক্সে দেয়া এক পোস্টে বার্নহাম পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ফেয়ারফোর্ডের কাছে ঘটনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারীরা উদ্বিগ্ন হতে পারেন।
এর আগে জুলাইয়ে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছিল, ইরান কোনো হামলা করলে তা মোকাবেলায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ডস (আইআরজিসি) এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, ফেয়ারফোর্ড থেকে মার্কিন বোমারু বিমান উড্ডয়নের সুযোগ দেয়া হলে ঘাঁটিটি হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।
তবে রোববারের ঘটনার সঙ্গে ঠিক কারা জড়িত বলে পুলিশ মনে করছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তদন্ত সম্পর্কে অবগত এক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো উদ্দেশ্যকেই সবচেয়ে সম্ভাব্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়ার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কিংবা ইসলামপন্থী কোনো ষড়যন্ত্রের বিষয়ও তদন্তে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাজ্যে এই আটক দারুণ হয়েছে এবং এটি অসাধারণ কাজ। তার দাবি, সন্দেহভাজনরা দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে ছিলেন এবং বড় ধরনের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করছিলেন।
রোববার সকালে সশস্ত্র পুলিশ ঘাঁটির প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। বড় যন্ত্রপাতি দিয়েও প্রবেশের পথ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অন্য কয়েকটি ব্রিটিশ ঘাঁটিতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পূর্ব ইংল্যান্ডের আরএএফ লেকেনহিথ ও আরএএফ মিল্ডেনহলের প্রবেশপথে সাঁজোয়া যান ও সেনাসদস্য মোতায়েন দেখা গেছে।
গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশের সহকারী চিফ কনস্টেবল রিচার্ড ওকোনে সাংবাদিকদের বলেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিরাপত্তাবেষ্টনী রাখা হয়েছে এবং কিছু সময়ের জন্য এলাকায় জরুরি সেবাদানকারী বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যাবে।
মার্কিন বিমানবাহিনীর এক মুখপাত্র নির্দিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ইউনিটগুলো সতর্ক রয়েছে এবং মার্কিন সেনা, বেসামরিক কর্মী, ঠিকাদার ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।










