সমুদ্র থেকে কার্বণ অপসারণে কাজ শুরু করেছে যুক্তরাজ্য। ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে চালু হয়েছে ‘সি-কিউর’ নামের পরীক্ষামূলক এ প্রকল্প। যা সমুদ্রের পানি থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। খবর বিবিসি।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানো। তবে অনেকে বলছেন, এরইমধ্যে বায়ুমণ্ডলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন পৌঁছে গেছে, তার কিছু অংশ অপসারণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে"কার্বন ক্যাপচার করার প্রক্রিয়া চলছে।

‘সি-কিউর’ এমনই এক প্রকল্প। এই প্রকল্পে সমুদ্রের পানি বিশেষ প্রক্রিয়ায় পাইপের মাধ্যমে টেনে এনে অম্লীয় করা হয়। যাতে দ্রবীভূত কার্বন গ্যাসে রূপান্তর হয়ে সহজে বের হয়ে আসে। এই গ্যাসকে পরে জলন্ত নারকেলের খোলস ব্যবহার করে শোষণ করে সংরক্ষণ করা হয়। এরপর, পানি আবার ক্ষারীয় উপাদান দিয়ে নিরপেক্ষ করে সমুদ্রে ফেরত পাঠানো হয়। যেখানে তা আবার বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ শুরু করে।

সিকিউর প্রকল্প ব্যবহার করে প্রতি বছর ১০০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণ করা সম্ভব । যা প্রায় ১০০টি ট্রান্সআটলান্টিক ফ্লাইটের সমপরিমাণ। তবে গবেষকরা আশাবাদী। তারা বলছেন, যদি বিশ্বব্যাপী মাত্র ১ শতাংশ সমুদ্রের ওপরের পানি এইভাবে প্রক্রিয়াজাত করা যায়, তাহলে প্রতি বছর প্রায় ১৪ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড বাতাস থেকে সরানো সম্ভব।

এই প্রযুক্তি অনেক ব্যয়বহুল। একে সত্যিকার অর্থে কার্যকর করতে হলে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নবায়নযোগ্য শক্তি- যেমন ভেসে থাকা সৌর প্যানেল - দিয়ে চালাতে হবে।