দক্ষিণ আফ্রিকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি বন্দুক হামলার ঘটনায় ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে স্থানীয় সময় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জোহানেসবার্গের কাছে একটি বারে আট বন্দুকধারীর হামলায় ১৭ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হন। এর কয়েক ঘণ্টা পর রোববার ভোরে কেপটাউনের কাছে একটি টাউনশিপের বিনোদনকেন্দ্রের বাইরে আরেকটি হামলায় নিহত হন ১০ জন। এ ঘটনায় আরো ১১ জন আহত হয়েছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জোহানেসবার্গের কাছে হামলার সময় বন্দুকধারীরা বারের বাইরে থাকা লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে তারা বারের ভেতরেও হামলা চালিয়ে দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও চারজন নারী। পুলিশ হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানায়নি।
তবে এএফপির প্রতিবেদনে পুলিশের ডেপুটি প্রভিন্সিয়াল কমিশনার মেজর জেনারেল ফ্রেড কেকানার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এটি প্রতিশোধমূলক হামলা হতে পারে। সন্দেহভাজনদের বিষয়ে পুলিশের কাছে স্পষ্ট ছবি এবং কয়েকজনের নামও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কেপটাউনের কাছে দ্বিতীয় হামলায় ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে মারা যান আরো পাঁচজন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত কোনো হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় একের পর এক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগে ডারবান শহরে বন্দুকধারীরা কোয়ামাখুথা টাউনশিপের একটি বাড়িতে হামলা চালালে ১১ জন নিহত হন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার দীর্ঘদিনের সমস্যা। দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক ধারাবাহিক বন্দুক হামলার ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব সহিংসতার বেশিরভাগই মাদক পাচার ও অবৈধ খনির সঙ্গে যুক্ত।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এসব অপরাধকে দেশের গণতন্ত্র, সমাজ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।










