থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র মায়াওয়াদ্দির কাছে মিয়ানমারের সেনা এবং সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ আবার শুরু হয়েছে। নগদ অর্থ সংকটে পড়া মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর জন্য এই মায়াওয়াদ্দি একটি বড় বাণিজ্য পয়েন্ট বলে জানা গেছে। মিয়ানমারের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মুখপাত্র এবং থাই সেনাবাহিনী এ খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলেছে, এক সপ্তাহ আপেক্ষিক শান্ত থাকার পরে গতকাল উভয় পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। খবর রয়টার্স ও এপি।
চলতি মাসের শুরুর দিকে মিয়ানমারের বাণিজ্য কেন্দ্র মায়াওয়াদ্দির চারপাশে ভয়ংকর লড়াই শুরু হয়। দেশটির সামরিক জান্তা শহরে তাদের অবস্থান থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। ১১ এপ্রিল সীমান্তবর্তী প্রধান বাণিজ্য শহর মায়াওয়াদ্দি দখল করে প্রতিরোধ যোদ্ধা এবং জাতিগত সংখ্যালঘু বিদ্রোহীরা। ঘটনাটি সামরিক জান্তার জন্য একটি বড় ধরনের ধাক্কা ছিল। এ ঘটনার পর থাই-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী একটি ক্রসিং সেতুতে আশ্রয় নেয় প্রায় ২০০ জান্তা সেনা। তাদের লক্ষ্য করেই শনিবারের এ হামলা পরিচালনা করে বিদ্রোহীরা।
থাই ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের তিন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, শুক্রবার গভীর রাত থেকে সেতুর কাছে বিস্ফোরণ এবং ভারী মেশিনগানের গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন তারা। এ শব্দ শনিবার ভোর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। বেশ কয়েকটি থাই মিডিয়া জানিয়েছে, তাৎক্ষণিক আশ্রয়ের আশায় সীমান্ত পেরিয়ে থাইল্যান্ডে গেছে প্রায় ২০০ মানুষ।
থাই সম্প্রচারকারী এনবিটি এক্স-এ করা একটি পোস্টে বলেছে, জান্তা সেনাদের লক্ষ্য করে প্রতিরোধ বাহিনী ৪০ মিলিমিটার মেশিনগান ব্যবহার করেছে এবং ড্রোন ব্যবহার করে ২০টি বোমা ফেলেছে।
সীমান্তের এ অস্থিরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার কথা বলেছেন থাই প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন। প্রয়োজনে তার দেশ মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন।
থাই টাস্ক ফোর্সও নিশ্চিত করেছে যে সেতুটি বন্ধ রয়েছে এবং সৈন্যরা পাশে দাঁড়িয়ে আছে। একটি টুইট বার্তায়, থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্নাপ্রি বাহিদ্ধা-নুকারা বলেছেন, শুক্রবার রাতে সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পর তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এদিকে নতুন করে সংঘর্ষের তথ্য নিশ্চিত করেছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীও। মায়াওয়াদ্দি সামরিক বাহিনীর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত এপ্রিল থেকে ১২ মাসে এ রুট দিয়ে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বাণিজ্য হয়েছে।
স্থানীয় থাই মিডিয়া শনিবার সকালে থাইল্যান্ডে প্রবেশের জন্য সারিবদ্ধভাবে বহু লোকের ভিডিও শেয়ার করেছে।
জান্তাবিরোধী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) জানায়, আগের সংঘর্ষের সময় কিছু সৈন্য মায়াওয়াদ্দির সঙ্গে থাই শহর মায়ে সোটের সংযোগকারী একটি সেতুর নিচে আশ্রয় নিয়েছিল। কেএনইউ মুখপাত্র পাদো সাও থাও নি বলেন, ‘সেখানে একটি গ্রুপ মায়াওয়াদ্দিতে জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করছে।’ এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।










