নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়তে যাচ্ছেন ভারতীয় লেখিকা ও অ্যাক্টিভিস্ট অরুন্ধতী রায়। পুরোনো একটি এফআইআরকে কেন্দ্র করে অত্যন্ত কড়া ইউএপিএ বা সন্ত্রাসদমন আইনে লেখিকার বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি দিলেন দিল্লির লেফটন্যান্ট গভর্ণর ভিকে সাক্সেনা। খবর হিন্দুস্তান টাইমস।

প্রকাশ্যে বিতর্কিত বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে মামলাটি হবে বলে জানা গেছে। অরুন্ধতীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৩ বছর আগে কাশ্মীর ইস্যুতে ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি।

এর আগে একই বিষয়ে নয়াদিল্লির মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশের পর অরুন্ধতী রায় ও কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক শেখ শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। সেটিও নির্দেশে যোগ করেছেন দিল্লির লেফটন্যান্ট গভর্ণর ভিকে সাক্সেনা।

বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি অরুন্ধতী রায় ও শেখ শওকত হোসেন।

ওই ঘটনায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ, ১৫৩বি এবং ৫০৫ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। ইউএপিএ’র ১৩ নম্বর ধারাতেও তাদের অভিযুক্ত করার আবেদন করেছিল দিল্লি পুলিশ। ভারতীয় দণ্ডবিধির তিনটা ধারাতেই মামলা শুরুর অনুমতি আগেই দিয়েছিলেন দিল্লির লেফটন্যান্ট গভর্ণর ভিকে সাক্সেনা। এবার ইউএপিএ ধারাতেও অরুন্ধতী রায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি দিলেন তিনি।

২০১০ সালের ২৮ অক্টোবর কাশ্মীরের সংগঠক সুশীল পণ্ডিতের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর হয়। এর ভিত্তিতে অরুন্ধতী রায় ও শেখ শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে মামলায় বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের ৪৫ (‌১)‌ ধারার অধীনে বিচারের অনুমোদন দিয়েছেন ভিকে সাক্সেনা।

অভিযোগে বলা হয়, ‘আজাদি দ্য ওনলি ওয়ে’ নামের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় অরুন্ধতী রায় কাশ্মীরকে ভারতের থেকে বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছিলেন। ওই সভায় অরুন্ধতীর সঙ্গে উপস্থিত একাধিকজনের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তৃতার অভিযোগ উঠেছিল।

২০১০ সালে দায়ের করা ওই মামলায় বিদ্বেষ ছড়ানো, সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর কাজ করা, জাতীয় ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর বক্তব্য রাখার অভিযোগ করা হয়েছিল। দোষী সাব্যস্ত হলে ওই মামলায় অরুন্ধতী রায়ের সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এরপরই এফআইআর দায়ের করে দিল্লি পুলিশ। সেই মামলাতেই এবার ইউএপিএ ধারা যোগ করার অনুমতি দিলেন দিল্লির লেফটন্যান্ট গভর্ণর ভিকে সাক্সেনা।