স্কটল্যান্ডের সানডে
দ্বীপের অর্কনি সমুদ্র সৈকতে আটকে পড়ে ৭৭টি পাইলট তিমির মৃত্যু হয়েছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে এটিকেই সবচেয়ে বেশি তিমির আটকে পড়ার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিমিগুলোর মধ্যে সাত মিটার (২২ ফুট) লম্বা পুরুষ তিমির পাশাপাশি স্ত্রী তিমি এবং তিমি শাবকও ছিল। খবর বিবিসি।
ব্রিটিশ
ডাইভারস মেরিন লাইফ রেসকিউ (বিডিএমএলআর) সানডে দ্বীপের ট্রেসনেস বিচে নিয়ে বেঁচে থাকা ১২টি তিমিকে পানিতে ভাসিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে তাদের কষ্ট লাঘব করার জন্য মেরে ফেলার (ইউথানাইজ) সিদ্ধান্ত নেয়। তিমিগুলোকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিল বিডিএমএলআর এবং স্কটল্যান্ডের সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু এনিম্যালস (এসপিসিএ) এর সদস্যরা। তিমিগুলোকে বাঁচানোর জন্য যত দ্রুত সম্ভব সেগুলোকে খাঁড়া অবস্থানে নেয়া দরকার ছিল। কিন্তু নরম বালির কারণে সেটাও করা যাচ্ছিল না।
বিশেষজ্ঞরা
বলেছেন, একসাথে এতগুলো তিমির আটকে পড়ার কারণ কী তা এখনই জানা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করা হচ্ছে যে, একটি তিমি হয়তো বিপদে পড়েছিল। তাকে সাহায্য করতে এসে বাকিগুলো সৈকতে আটকে পড়ে। উঁচু জোয়ার এবং বালির কারণে সাগর থেকে এলাকাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। আর সৈকতের জায়গাটি তিমিগুলোর জন্য ছিল অতিরিক্ত নরম। ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয়দের ঘটনাস্থলে যেতে নিষেধ করেছে কর্তৃপক্ষ।
স্কটিশ মেরিন এনিম্যাল স্ট্র্যান্ডিং স্কিমের অ্যান্ড্রু ব্রাউনলো বলেছেন যে, স্কটল্যান্ডে সৈকতে সামুদ্রিক প্রাণীর আটকে পড়ার ঘটনা ইদানীং বেড়ে যাচ্ছে। তবে এত প্রাণীর আটকে পড়ার ঘটনা অস্বাভাবিক। তিনি বলেন, গত দশ বছরে আমরা স্কটল্যান্ডের আশপাশে এ ধরনের ঘটনা এবং এতে প্রাণীর মৃত্যুর সংখ্যা উভয়ই বেড়ে যেতে দেখছি। এটি অবশ্যই উদ্বেগজনক।
১৯৯৫ সালে স্কটিশ মেরিন এনিম্যাল স্ট্র্যান্ডিং স্কিম (এসএমএএসএস) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে স্কটল্যান্ডে এটিকেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে তিমির আটকে পড়ার ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে। গত বছর লুইসে ৫৫টি পাইলট তিমির সম্পূর্ণ একটি ঝাঁক সৈকতে আটকে পড়ে মারা গিয়েছিল। ২০১১ সালে সাদারল্যান্ডের অগভীর পানিতে আটকে পড়েছিল ৬০-৭০টি তিমি। ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম অনুসারে, ১৯২৭ সালে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আকারে প্রাণীদের আটকে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। তখন হাইল্যান্ডের ডরনোচ ফার্থে আটকে পড়ে ১৩০টিরও বেশি ফলস কিলার হোয়েল। মারা গিয়েছিল ১২৬টি।










