বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশাল বরফাবৃত দ্বীপটি দখলের ইচ্ছা অনেককে অবাক করেছে। কিন্তু ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, গ্রিনল্যান্ড নিজেদের মানচিত্রে যুক্ত করার দেশটির আকাঙ্ক্ষা মোটেও নতুন কোনো খেয়াল নয়। গত দেড়শ বছরে অন্তত তিনবার গ্রিনল্যান্ডকে হাতের মুঠোয় নিতে চেয়েছিল হোয়াইট হাউজ।

শুরুটা ১৮৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রীতির শুরুটা হয় গৃহযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে। ১৮৬৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে আলাস্কা কেনার পর তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম সিওয়ার্ডের নজর পড়ে গ্রিনল্যান্ডের দিকে। তিনি আর্কটিক এ অঞ্চলকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন। বিশেষ করে এখানকার প্রচুর খনিজ সম্পদ ও কয়লার ভাণ্ডার তাকে আকৃষ্ট করেছিল। তবে সে সময় মার্কিন কংগ্রেসের অনাগ্রহের কারণে বিষয়টি প্রাথমিক আলোচনার বেশি এগোতে পারেনি।

১৯১০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফ্টের আমলে আবারো গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সেবার আর সরাসরি কেনা নয়, বরং একটি জটিল ভূমি বিনিময় বা ‘ল্যান্ড সোয়াপ’-এর প্রস্তাব দেয়া হয় ডেনমার্ককে। মার্কিন কূটনীতিকরা চেয়েছিলেন অন্য কোনো অঞ্চলের বিনিময়ে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা পেতে। কিন্তু ডেনমার্ক সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিলে দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

১৯৪৬ সালে ডেনমার্ককে ১০ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণের বিনিময়ে গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দেয় প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের প্রশাসন। বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন গ্রিনল্যান্ডে তৈরি মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলো সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। স্নায়ুযুদ্ধের শুরুতে নিরাপত্তার খাতিরেই ট্রুম্যান দ্বীপটি কিনতে চেয়েছিলেন। ডেনমার্ক সেবারও দ্বীপটি বিক্রি করতে রাজি হয়নি, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সেখানে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার অনুমতি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজও সেখানে টিকে আছে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরতম সামরিক ঘাঁটি ‘পিটুফিক স্পেস বেস’।

এপি অবলম্বনে