অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মাঝ বরাবর নতুন একটি রাস্তা তৈরি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, রাস্তাটি গাজার পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে চলমান হামলার মধ্যে কী কারণে গাজাকে বিভক্ত করে এ রাস্তা তৈরি করেছে ইসরায়েল?

ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) অবশ্য বিবিসিকে জানিয়েছে, পণ্য ও ত্রাণ সরবরাহের উদ্দেশ্যে এ রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এটা সম্ভবত স্থায়ী অবকাঠামো। রাস্তাটিকে প্রাচীর হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। যাতে ফিলিস্তিনিরা গাজার উত্তরাঞ্চলে আর ফিরে যেতে না পারেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধ-পরবর্তী যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন এটা তারই অংশ। মূলত এটা গাজায় দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির অংশ। খবর বিবিসি।

স্যাটেলাইট ইমেজের বরাতে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, নতুন রাস্তাটি একেবারে সোজাসুজি গিয়ে ফিলিস্তিনি এলাকাটিকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। এটি গাজার ওপর দিয়ে গিয়ে পশ্চিমে উপকূলীয় এলাকায় গিয়ে শেষ হয়েছে। রাস্তাটির সঙ্গে সালাহ আল-দীন ও আল-রশীদ সড়কেরও সংযোগ রয়েছে। এ দুটি রাস্তা গাজার সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের চালিকাশক্তির মতো। একটি ইসরায়েলি টিভি চ্যানেলের বরাত দিয়ে বিবিসি বলছে, আইডিএফ রাস্তাটিকে হাইওয়ে ৭৪৯ নামে অভিহিত করেছে।

ইসরায়েলের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জ্যাকব নাগেল বলেন, ‘‌নতুন এ সড়কপথের উদ্দেশ্য হলো এটি যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা ইস্যুতে আইডিএফকে সহায়তা করবে। ইসরায়েলি বাহিনী দ্রুত বিভিন্ন স্থানে পৌঁছতে পারবে। নিজেদের নিরাপত্তাজনিত কোনো ইস্যু দেখলে ইসরায়েলকে আর অপেক্ষা করতে হবে না। দ্রুতগতিতে ব্যবস্থা নিতে পারবে।’

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর জেনারেল ইয়াকব আমিদরর বলছিলেন, এ রাস্তা পুরো গাজায় সামরিক নিয়ন্ত্রণে আইডিএফকে সহায়তা করবে।

ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা জাস্টিন ক্রাম্প বলেন, ‘‌এটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। গাজা উপত্যকায় যেকোনো অভিযান চালাতেই এ পথ নির্মাণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো সময় ছোট ছোট কিন্তু কার্যকর অভিযান পরিচালনা করতে পারবে আইডিএফ।

নবনির্মিত রাস্তাটি গাজা নিয়ে ইসরায়েলের যুদ্ধপরবর্তী কৌশল নিয়ে বিতর্ক আবারো উসকে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাস্তাটির পাশে যেসব ভবন ছিল, সেগুলো গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু করে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি বহুতল ভবনও রয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার বিষয়ে তার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন, যেখানে বলা হয়েছিল ইসরায়েল অনির্দিষ্টকালের জন্য গাজার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো খালেদ এলগিন্দি বলছিলেন, গাজাকে অর্ধেকে ভাগ করার মানে হচ্ছে, ইসরায়েল শুধু গাজায় প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপরই নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছে না, বরং গাজার অভ্যন্তরীণ চলাচলের ওপরও তার নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এর অর্থ হতে পারে, গাজার দক্ষিণে আশ্রয় নেয়া ১৫ লাখ ফিলিস্তিনিকে উত্তরাঞ্চলে তাদের বাড়িঘরে ফিরতে না দেয়া।

তিনি আরো বলেন, ‘‌অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে গাজায় অনির্দিষ্টকাল অবস্থান করবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।’