গাজয় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরণের বন্দি বিনিময়ের চুক্তিতে যাবে না ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। গতকাল সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরায় দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য খলিল আল-হাইয়া। খবর আনাদোলু এজেন্সি।

আল-জাজিরার বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে হামাস তিনটি শর্ত দিয়েছে। শর্তগুলো হচ্ছে- প্রথমত গাজা অঞ্চলের বাসিন্দার সব রকমের সহায়তা নিশ্চিতে ইসরায়েলি বাধার অবসান এবং ‍বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা বন্ধ করা এবং তৃতীয়ত তেল আবিবের কারাগারে আটক থাকা প্রায় ১০ হাজার বন্দি ফিলিস্তিনির মুক্তি নিশ্চিত করা। কেবলমাত্র এসকল বিষয়ে একমত হলেই জিম্মি বিনিময় চুক্তিতে মত দেয়ার কথা জানিয়েছেন হামাসের ওই নেতা।

তবে এসকল প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। হামাসের ওই নেতা বলেছেন, ইসরায়েল গাজা থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়ে অস্বিকৃতি জানিয়েছে এবং তারা কারাবন্দি ফিলিস্তিনিদের তাদের বাড়িতে ফিরতে দিতে নারাজ।

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি হামাসের এই প্রস্তাবকে ভুল প্রস্তাব বলে মন্তব্য করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ফিলিস্তিনি এক সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি গাজায় ১৩৫ দিন ধরে চলা যুদ্ধের স্থায়ি সমাধানের লক্ষ্যে তিন ধাপের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করে হামাস। যার মধ্যে জিম্মিদের মুক্তির বিষয়টিও রয়েছে। তবে হামাসের এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে ইসরায়েল।

উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেল আবিব। এর বিপরীতে তাদের প্রতিশোধমূলক হামলায় গাজায় গত চার মাসে প্রাণ হারিয়েছেন ২৯ হাজার ৯২ জন ফিলিস্তিনি। উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, নিহতের বেশির ভাগ বেসামরিক নারী এবং শিশু। অন্যদিকে আহতের সংখ্যা ৬৯ হাজার ২৮ জনে পৌঁছেছে। জাতিসংঘ বলছে, বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং চিকিৎসা উপকরণের তীব্র সংকটে মৃত্যুর পথে রয়েছে গাজার কয়েক হাজার মানুষ। এছাড়া ফিলিস্তিনের ওই অঞ্চলের প্রায় ৮৫ শতাংশ বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে বিশ্বের মানবাধিকার এই সংস্থাটি।