ইসরায়েলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর ক্ষমতা ধরে রাখতে অপপ্রচারের আশ্রয় নেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবারের নির্বাচনে আরব-ইসরায়েলি দলগুলো বিদেশী সহায়তায় ভোট ‘চুরি’ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
নেতানিয়াহু ও তার মিত্ররা ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোট কেনাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এসব অনিয়মে বিদেশী অর্থায়ন ছিল বলেও দাবি তাদের।
তবে প্রধান বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোট অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিত প্রচার চালাচ্ছে নেতানিয়াহু ও তার লিকুদ পার্টি। তার ভাষায়, নির্বাচনের ফলাফলের বৈধতা নষ্ট করতে সমন্বিত প্রচার শুরু করেছে তারা।
নেতানিয়াহুর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সরকারি কর্মকর্তাদের একাংশ, পুলিশ এবং নির্বাচন কমিটির সদস্যরা। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগও পুরো একটি জনগোষ্ঠীকে কলঙ্কিত না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
চার বছর ক্ষমতায় থাকার পর মঙ্গলবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। চূড়ান্ত ফলে ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি। বাকি ১৯টি আসন পেয়েছে আরব-ইসরায়েলি দুই দল জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব জনগোষ্ঠীর জন্য এটি ঐতিহাসিক সাফল্য।
নেতানিয়াহুর অভিযোগের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছেন বিরোধীরা। তাদের ধারণা, নতুন নেসেটে আরব ও ইহুদি বিরোধী দলগুলোর সম্ভাব্য সহযোগিতা ঠেকাতেই এই প্রচার। এতে বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে অপসারণ এবং বিরোধীদের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
নেতানিয়াহুর অভিযোগের পক্ষে কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভনেহ। পুলিশ কর্মকর্তারাও অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলেছেন।
আরব ভোটারদের রেকর্ড অংশগ্রহণের পেছনে বৈষম্য ও কট্টর ডানপন্থীদের ক্ষমতায় ফেরার আশঙ্কা কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কাতার নির্বাচনে অর্থায়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।









