আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে অতিবৃষ্টি
ও বন্যায় তিনশর বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর দিয়েছে বিশ্ব খাদ্য
সংস্থা (ডব্লিউএফপি)। এরই মধ্যে আরো দুটি ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। এমন
অবস্থায় দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা
জানিয়েছে, শুক্রবার ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে ব্যাপক বন্যায় হাজার হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস
বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে আইওএম জানিয়েছে, শুধু বাঘলান জাদিদ জেলাতেই ১ হাজার
৫০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
তালেবানের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন,
আমাদের শত শত নাগরিক এ বিপর্যয়কর বন্যার কবলে পড়েছে। অবশ্য তিনি ওই সময় হতাহতের সংখ্যা
উল্লেখ না করে বলেন, অনেক মানুষ মারা গেছে।
বাঘলানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশের একজন দুর্যোগ
ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারি মৌসুমি বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা হঠাৎ এমন বন্যার জন্য প্রস্তুত ছিল না। উদ্ধারকর্মীরা কাদা এবং
ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছে
তাদের তাঁবু, কম্বল ও খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও ফুটেজে দেখা
যায়, জলাবদ্ধ রাস্তা ও মরদেহগুলো সাদা ও কালো কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। পৃথক একটি ভিডিওতে
দেখা গেছে, চারদিকে শিশুদের কান্নার আওয়াজ এবং অনেকে বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া ঘরের
ভাঙা কাঠ ও ধ্বংসাবশেষের দিকে অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছে।
চার দশকের যুদ্ধে বিধ্বস্ত বিশ্বের অন্যতম
দরিদ্র দেশ আফগানিস্তান। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায়
ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে দেশটি। বিশ্বব্যাংকের মতে, আফগানিস্তানের অর্ধেক জনসংখ্যা দারিদ্র্যসীমার
নিচে বাস করে এবং ১৫ মিলিয়ন মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হচ্ছে।










