অধিকৃত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলার ফলে অন্তত ৩ হাজার অবিস্ফোরিত বোমা পড়ে আছে। যা সংগ্রহ করে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরি করছে হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসাম ব্রিগেড। খবর দ্য হারেৎজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ গাজায় ৪০ হাজারের বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। জাতিসংঘের মাইন অ্যাকশন সার্ভিস (ইউএনএমএএস) জানিয়েছে, এসব বোমার মধ্যে ৫ থেকে ১০ শতাংশ বিস্ফোরিত হয়নি। আইডিএফের ছোড়া এসব অবিস্ফোরিত বোমা থেকে নতুন অস্ত্র তৈরি করছে হামাস। গড়ে একেকটি ইসরায়েলি বোমার দাম ২০ হাজার থেকে–৩০ হাজার ডলার। ফলে হামাসের হাতে কয়েক কোটি ডলারের বিস্ফোরক চলে গেছে।
হারেৎজের অর্থনৈতিক ক্রোড়পত্র দ্য মার্কার বলছে, ‘এই অবিস্ফোরিত বোমাগুলো কার্যত এমন এক পাইপলাইন, যার মাধ্যমে ইসরায়েল অনিচ্ছায় হাজার হাজার টন বিস্ফোরক হামাসের হাতে তুলে দিয়েছে।’ এসব বোমা সংগ্রহ করে কেটে ভেতরের বিস্ফোরক পদার্থ বের করে হামাস। পরে বড় ধাতব পাত্রে ভরে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরি করছে হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসাম ব্রিগেড। কিছু ক্ষেত্রে বোমার গায়ে তার বেঁধে সরাসরি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ট্যাংক ও অন্যান্য সমরযান ধ্বংসে এসব বিস্ফোরকই ব্যবহার করছে তারা। হামাসের কাছে অস্ত্রের বড় ঘাটতি থাকলেও এই বোমা থেকে সংগ্রহ করা কাঁচামাল তাদের হাজার হাজার বিস্ফোরক বানাতে সাহায্য করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী খুব দ্রুত বোমা ব্যবহার করতে গিয়ে পুরনো ও ত্রুটিপূর্ণ ফিউজ ব্যবহার করেছে। যা বিস্ফোরণের সময় সঠিকভাবে কাজ করছে না। এর ফলে কয়েকটি মুনিশন ব্যর্থ হয়েছে। এ হার কিছু ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ পর্যন্ত। শুধু অবিস্ফোরিত বোমা নয়, ইসরায়েলের এক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে জানা যায়, ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলোয় দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সেখানে থাকা বহু অস্ত্র হামাসের হাতে চলে গেছে।















