যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘যদি ইরানি কর্তৃপক্ষ শান্তিপ্রিয় বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে।’ এর প্রতিক্রিয়ায় তার এ হুঁশিয়ারিকে ‘অসংযত’ ও ‘বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। খবর বিবিসি।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের রক্ষার্থে এগিয়ে আসবে।’ তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেননি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যার জবাবে ইরান প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালায়।
আব্বাস আরাঘচি সর্তক করে বলেন, ‘ইরানের সেনাবাহিনী হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং ঠিক কোথায় লক্ষ্য করতে হবে তা তারা জানে।’ তিনি আরো বলেন, 'ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ শক্তভাবে প্রত্যাখ্যান করা হবে।'
বিক্ষোভ শুরু হয় মূলত তেহরান থেকে। ইরানে রিয়ালের মূল্য হঠাৎ হ্রাসের কারণে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন এবং অন্যান্য শহরে এ প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
আধাসরকারি সূত্র অনুযায়ী, এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে আটজন নিহত হয়েছে। লর্ডেগানে দুইজন, আজনা ও কোহদাশতে চারজন, ফুলোদশাহর ও মারভদশতে আরো দুইজন মারা গেছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, 'সরকার বিক্ষোভকারীদের যৌক্তিক দাবিগুলো শুনবে।'
তবে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি-আজাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কোনো বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তা দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’ পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিদেশী কোনো শক্তিকে বিক্ষোভকে অরাজকতায় পরিণত করতে দেবে না।
ইরানের জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির-সাঈদ ইরাভানি ট্রাম্পের মন্তব্যের নিন্দা জানাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে এই হুমকির যে কোনো ফলাফলের পূর্ণ দায়িত্ব বহন করতে হবে।’
এবারের আন্দোলনের মূল কারণ অর্থনৈতিক চাপ, সরকারের ব্যবস্থাপনা ও শাসন ব্যবস্থা। অনেকেই ২০২২ সালের আন্দোলনের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করছেন। সে সময় ‘নৈতিক পুলিশ’ হেফাজতে মারা যান মাহসা আমিনি, যিনি দেশটির পোশাকবিধি ভঙ্গের অভিযোগে আটক হয়েছিলেন। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সেসময় দেশজুড়ে বড় আন্দোলন হয়েছিল। তবে এবারের বিক্ষোভে অর্থনৈতিক সংকটের কথা সামনে এসেছে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে বিক্ষোভ আরো ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।












