গাজার সেফ জোন হিসেবে পরিচিত আল-মাওয়াসি ক্যাম্পে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৯০ ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০০ জন। হামাসের সামরিক প্রধান মোহাম্মদ দেইফ ও তার ডেপুটি রাফা সালামাকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানা গেছে, আল-মাওয়াসি এলাকায় তাঁবুতে আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালানো হয়। ওই এলাকায় অন্তত পাঁচটি বোমা ও পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। 

গাজা সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্থানটিকে আগে ইসরায়েল ‘সেফ জোন’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

গাজায় হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে আরো বহু মানুষ। গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গাজায় সবচেয়ে মারাত্মক হামলা এটি। 

আল-মাওয়াসির একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেছেন, হামলার স্থান দেখে মনে হচ্ছে ‘ভূমিকম্প’ আঘাত হেনেছে। এলাকার ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ধোঁয়াটে ধ্বংসাবশেষ ও রক্তাক্ত হতাহতদের স্ট্রেচারে তোলা হচ্ছে। লোকজনকে তাদের হাত দিয়ে একটি বড় গর্তের ধ্বংসস্তূপ ভেদ করার জন্য মরিয়া চেষ্টা করতে দেখা যায়।

এদিকে হামলার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস। তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমানসহ মুসলিম দেশগুলো।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের সামরিক প্রধান মোহাম্মদ দেইফকে হত্যার জন্য এ হামলা চালানো হয়েছে। আল-মাওয়াসি এলাকাকে নিরাপদ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন মোহাম্মদ দেইফ। তবে হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত করা যায়নি।

মোহাম্মদ দেইফকে গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মনে করা হয়। ইসরায়েলের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তিনি। এর আগেও কয়েকবার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহ তাদের নেতাদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর দাবিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। নেতানিয়াহু জঘন্য গণহত্যা চালিয়ে গাজা যুদ্ধবিরতিতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরারয়েলে ঢুকে হামাসের প্রাণঘাতী হামলার জবাবে উপত্যকায় প্রায় বিরামহীন আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। হামাসের ওই হামলায় নিহত হয় ১ হাজার ২০০ জনের মতো ইসরায়েলি। ওইদিন দুই শতাধিক ইসরায়েলিকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে আসে হামাস। ওই হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। তাদের হামলা থেকে রেহাই পায়নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মসজিদ কিংবা গির্জার মতো বেসামরিক স্থাপনা।