ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় একটি যুদ্ধবিরতি ও হামাসের হাতে জিম্মি ইসরায়েলিদের মুক্তির বিষয়ে কায়রোতে চলমান আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। বরাবরের মতো বৃহস্পতিবারও (৯ মে) কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হলো এই আলোচনা। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের হুমকিকে উপেক্ষা করে রাফার গোটা পূর্বাঞ্চল ঘিরে ফেলেছে ইসরায়েলের ট্যাংক। স্থানীয় বাসিন্দারা শুক্রবার নগরীর পূর্ব এবং উত্তর-পূর্বে প্রায় অবিরাম বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দের খবর জানিয়েছেন। নগরীর এ অংশে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধাদের তুমুল লড়াই চলছে। খবর রয়টার্স। 

হামাস জানিয়েছে, তারা নগরীর পূর্ব দিকে একটি মসজিদের কাছে ইসরায়েলি ট্যাঙ্কে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের ট্যাংক যে পূর্বাঞ্চল থেকে নগরীর উপকষ্ঠের কয়েক কিলোমিটার ভেতরে নির্মিত এলাকায় ঢুকে পড়েছে এ তারই লক্ষণ।

ইসরায়েল রাফার পূর্বাঞ্চল থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। হামলার আশঙ্কায় এরই মধ্যে লাখো মানুষ নগরী ছেড়ে পালিয়েছে। এর আগে এ রাফায় ছিল গাজার অন্যান্য অংশ থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখেরও বেশি মানুষের আশ্রয়স্থল।

ইসরায়েল বলছে, হামাস যোদ্ধাদেরকে নির্মূল করতে হলে রাফায় হামলা না চালিয়ে তারা জয়লাভ করতে পারবে না। কারণ, হামাস যোদ্ধারা রাফাতেই আশ্রয় নিয়ে আছে বলে তাদের বিশ্বাস। ওদিকে, হামাস বলছে তারা রাফাকে সুরক্ষিত রাখার জন্য লড়বে।

এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বলেছেন, গাজায় সংঘর্ষ থামানোর প্রচেষ্টায় কায়রোতে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনার সর্বশেষ দফা শেষ হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাফা এবং গাজা উপত্যকার অন্যান্য অংশে অভিযান চালিয়ে যাবে ইসরায়েল।ওই কর্মকর্তা আর বলেন, দেশটি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে হামাসের প্রস্তাবের বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে আপত্তির কথা জানিয়েছে। একটি ভিডিও বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘প্রয়োজনে মাটি আঁকড়ে ধরে হলেও আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। তবে আমাদের সক্ষমতা এর চেয়েও বেশি।’

রাফার পশ্চিমে তেল আল-সুলতানের বাসিন্দা আবু হাসান রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এ নগরী নিরাপদ নয়। গোটা রাফাই নিরাপদ নয়। কারণ, গতকাল থেকে সব জায়গাতেই ট্যাঙ্কের গোলা এসে পড়ছে। আমি চলে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমার পরিবারের জন্য একটি তাঁবু কিনতে আমি দুই হাজার শেকেল জোগাড় করতে পারছি না। ইসরায়েলের সেনারা কেবল রাফার পূর্বদিকেই নয়, গোটা রাফাকেই ট্যাংকের গোলা ও বিমান হামলার নিশানা করেছে।