ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি বেড়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। এতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাব্যতা ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার (৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন ভলকার। খবর রয়টার্স।  

গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে এভাবে বসতি স্থাপনাকে অবৈধ বলে মনে করেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার। তিনি বলেছেন, এভাবে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন এক ধরনের যুদ্ধাপরাধ।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অন্তরায় হিসেবে দেখে আসছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েল নতুন আবাসন পরিকল্পনা ঘোষণার পর গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, এসব বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

অবৈধভাবে ইসরায়েলি আবাসন বৃদ্ধি সম্পর্কে ১৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের সঙ্গে ওই বিবৃতিতে তুর্ক বলেন, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাসহ বসতি স্থাপন সম্পর্কিত লঙ্ঘনের ঘটনা বিস্ময়করভাবে নতুন স্তরে পৌঁছেছে। এক্ষেত্রে টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে কোনো বাস্তব সম্ভাবনা মুছে ফেলার ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘের প্রতিবেদন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। ২০২৩ সালে হামাসের হাতে ৩৬ জন ইসরায়েলি নিহতের তথ্য এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা উচিত বলে মনে করে তেল আবিব। মানবাধিকার সর্বজনীন তার পরও জাতিসংঘ বারবার এসব তথ্য উপেক্ষা করছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটি।

জাতিসংঘের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও অন্যান্য সূত্রের ভিত্তিতে করা এ প্রতিবেদনে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত এক বছরের সময়কালে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ২৪ হাজার ৩০০ নতুন ইসরায়েলি আবাসন নথিভুক্ত করা হয়েছে। এটি ২০১৭ সালে পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ।